ভোটারদের সুবিধার্থে অ্যাকশন মোডে কমিশন! মোবাইল নম্বরেই মিলবে সমাধান, নয়া গাইডলাইন জারি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার নির্ঘণ্ট যত এগিয়ে আসছে, ততই কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। এবার সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এক অভাবনীয় নির্দেশ জারি করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ— সমস্ত স্তরের নির্বাচনী আধিকারিকদের মোবাইল নম্বর এবার সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করতে হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
নির্বাচন কমিশনের কাছে খবর ছিল যে, অনেক ক্ষেত্রেই ভোটাররা সমস্যার মুখে পড়লে বা কোনো অভিযোগ জানাতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের খুঁজে পান না। সঠিক যোগাযোগের অভাবে অনেক অভিযোগ সময়মতো পৌঁছায় না। সেই ফাঁক পূরণ করতেই এই উদ্যোগ।
-
সরাসরি যোগাযোগ: এর ফলে ভোটাররা ভোটার কার্ড সংক্রান্ত সমস্যা, বুথের অবস্থান বা ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সাথে কথা বলতে পারবেন।
-
স্বচ্ছতা: আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা বাড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
রিপোর্টার সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নির্দেশ দিয়েছেন: ১. ওয়েবসাইটে তালিকা: জেলাশাসক (DM) থেকে শুরু করে মহকুমা শাসক (SDO) এবং ব্লক স্তরের বিডিও (BDO)-দের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর জেলা প্রশাসনের পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। ২. বুথ স্তরে প্রচার: বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও (BLO)-দের নম্বর যাতে স্থানীয় মানুষ সহজে জানতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়তা: ভোটের সময় এই নম্বরগুলো যাতে চব্বিশ ঘণ্টা সচল থাকে এবং ভোটারদের ফোন রিসিভ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সুফল পাবেন ভোটাররা
প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে এই নির্দেশিকা জারি হওয়ায় সাধারণ মানুষ আশার আলো দেখছেন। বিশেষ করে যারা বুথ পরিবর্তন বা ভোটার কার্ডের ভুল সংশোধনের অপেক্ষায় ছিলেন, তারা এখন সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। এর ফলে ভোটের দিন অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা কমার সম্ভাবনাও দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
নির্বাচন কমিশন মনে করছে, প্রশাসনের সাথে আমজনতার এই সরাসরি যোগাযোগ গণতন্ত্রের উৎসবকে আরও সফল ও বাধাহীন করে তুলবে।