দৃষ্টি নেই তো কী? অদম্য জেদে বাজিমাত! সব হারানো যুবক এখন রাজস্থানের প্রশাসনিক অফিসার!

নিয়তি তাঁর দু-চোখ থেকে আলো কেড়ে নিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁর মনের জোর কেড়ে নিতে পারেনি। ভয়ংকর সড়ক দুর্ঘটনায় চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও হার মানেননি রাজস্থানের চুরু জেলার অভিষেক কুলহারি। সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে RAS-2024 পরীক্ষায় ব্লাইন্ড ক্যাটাগরিতে রাজ্য জুড়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করে চমকে দিয়েছেন তিনি।
একটি দুর্ঘটনা এবং চিকিৎসকদের গাফিলতি
২০১৮ সাল পর্যন্ত অভিষেকের জীবন ছিল পাঁচটা সাধারণ ছেলের মতোই। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সব ওলটপালট করে দেয়। ভুল দিক থেকে আসা একটি অটোর ধাক্কায় অটোর হেডলাইটের কাঁচ তাঁর চোখের মণি ও স্নায়ুকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। অভিযোগ, শুরুতে চিকিৎসকরা চোখের চিকিৎসার পরিবর্তে ব্রেন সার্জারি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। জয়পুর থেকে দিল্লি—সর্বত্র ছোটাছুটি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিরতরে অন্ধ হয়ে যান অভিষেক।
উপহাস থেকে সাফল্যের শিখর
দৃষ্টি হারানোর পর শুরু হয় জীবনের আসল লড়াই। অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটাচলা করতে না পারায় সমাজের একাংশের টিটকিরি ও করুণার পাত্র হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু অভিষেক সেই উপহাসকেই নিজের হাতিয়ার বানান। নিজেকে শান্ত রাখতে শুরু করেন যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন। সেখান থেকেই পান ফিরে লড়াইয়ের রসদ।
খেলার মাঠ থেকে প্রশাসনিক চেয়ার
প্রথমে প্যারা অ্যাথলিট হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন অভিষেক। ২০১৯ সালে রাজ্যস্তরের প্যারা অ্যাথলেটিক্সে শটপুট ও জ্যাভলিনে সোনা ও ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। কিন্তু কাঁধের চোট সেই স্বপ্নে ইতি টানে। এরপরই তিনি স্থির করেন সিভিল সার্ভিসে যোগ দেবেন।
পড়াশোনার পদ্ধতি: চোখের বদলে তিনি কানকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। অন্যের কাছ থেকে নোটস শুনে শুনে মনে রাখতেন এবং অনলাইন ক্লাসগুলো দ্বিগুণ গতিতে শুনে পড়াশোনা চালিয়ে যেতেন।
অধ্যাবসায়: প্রতিদিন ১৪-১৫ ঘণ্টা পরিশ্রম করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে মাত্র ৩ নম্বরের জন্য সুযোগ হারালও, ২০২৪-এ তিনি সাফল্যের শিখর স্পর্শ করেন।
এখন তানের বদলে তালি
যে সমাজ একসময় অভিষেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, আজ তারাই তাঁকে অভিনন্দন জানাতে ব্যস্ত। অভিষেক কুলহারির এই জয় প্রমাণ করে দিল যে, পরিস্থিতি মানুষকে ভেঙে ফেলে না বরং নিজেকে শক্তিশালী করার সুযোগ দেয়। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ২২১০ র্যাঙ্ক করলেও, ব্লাইন্ড ক্যাটাগরিতে তাঁর দ্বিতীয় স্থান আজ সারা দেশের যুবসমাজের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।