বিয়ের মণ্ডপেই কি ভেঙে যাবে মেজ মেয়ের বিয়ে? ননদের কুটিল চক্রান্তে চরম বিপাকে ‘কমলা নিবাস’-এর পল্লবী!

বিয়ের সানাই বাজতে না বাজতেই আশঙ্কার কালো মেঘ ‘কমলা নিবাস’-এ। একদিকে পকেটে টান, অন্যদিকে হবু ননদের একের পর এক কুটিল চাল— সব মিলিয়ে কি তবে ভেস্তে যেতে চলেছে পল্লবীর বিয়ে? জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর নতুন প্রোমো সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে টেলিপাড়ায়।
ননদের ভয়ংকর হুমকি: সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা প্রোমোতে দেখা যাচ্ছে, সাগর বসু মল্লিকের বোন পল্লবীর মাকে ফোন করে সরাসরি হুমকি দিচ্ছে। তাঁর সাফ দাবি, এলাহি আয়োজন করতে হবে, বুক করতে হবে দামী ব্যাঙ্কুয়েট হল। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ইচ্ছেমতো আয়োজন না হলে শেষ মুহূর্তে বিয়ে ভেঙে দিতে পিছপা হবে না ছেলের বাড়ি। কিন্তু একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই আকাশছোঁয়া দাবি মেটানো কি আদেও সম্ভব?
আর্থিক সংকটে শ্রীনিবাস: গল্পের ট্রুইস্ট এখানেই শেষ নয়। একদিকে যখন মেয়ের বিয়ের আয়োজন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে গুহ পরিবার, তখনই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো খবর পেলেন শ্রীনিবাস (দেবশঙ্কর হালদার)। জনৈক এক ব্যক্তিকে তিনি ১০ লক্ষ টাকা ধার দিয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। সেই টাকা ফেরত পাওয়ার আশা প্রায় নেই বললেই চলে। হাতে টাকা নেই, তার ওপর ছেলের বাড়ির বিলাসিতার দাবি— পল্লবীর বিয়ে কি তবে মাঝপথেই থমকে যাবে?
অতীতের ছায়া ও বর্তমানের লড়াই: গল্পে দেখা গিয়েছে, সাগরের এটি দ্বিতীয় বিয়ে এবং তাঁর একটি সন্তানও আছে। সব জেনেও পল্লবী এই বিয়েতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কথা এগোতেই স্বমূর্তিতে ধরা দিয়েছে সাগরের বোন। কেন পল্লবী একজন দোজবরকে বিয়ে করছে এবং কেন তাঁর মেয়ের দায়িত্ব নিতে চাইছে— এই নিয়ে পল্লবীকে বারবার মানসিক চাপে ফেলছে সে। হবু ননদের এমন আচরণে রীতিমতো আতঙ্কিত পল্লবী।
এক মধ্যবিত্তের স্বপ্ন ও বাস্তবতা: ‘কমলা নিবাস’ মূলত শ্রীনিবাস গুহ এবং তাঁর স্ত্রী কমলার (সোহিনী সেনগুপ্ত) গল্প। সংসারের ঘানি টানতে টানতে শ্রীনিবাসের বয়স বাড়লেও ফুরোয়নি স্বপ্ন। স্ত্রীর জন্য নিজের একটা বাড়ি গড়া এবং মেয়েদের সুপাত্রে দান করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু বাজারের আগুন দাম আর পরিস্থিতির ফেরে বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন তিনি।
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, দেবাদৃতা বসু, ধ্রুবজ্যোতি সরকারের মতো একঝাঁক তারকায় সমৃদ্ধ এই মেগা সিরিয়াল প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ছ’টায় দর্শকদের ড্রয়িং রুমে পৌঁছে যাচ্ছে। এখন দেখার, শ্রীনিবাস ও কমলা কি পারবেন সব বাধা পেরিয়ে মেয়ের চার হাত এক করতে? নাকি ননদের চক্রান্তই শেষ হাসি হাসবে?