“আমি কি শুধুই হাসতে জানি?” কপিলের শো-তে গিয়ে কপাল পুড়ল অর্চনার! বিস্ফোরক দাবিয়ে তোলপাড় বি-টাউন!

টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর অট্টহাসি ঘরোয়া বিনোদনের চেনা ছবি। কিন্তু সেই হাসির আড়ালেই যে জমাট বেঁধেছে একরাশ আক্ষেপ, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। ২০১৯ সালে নভজ্যোৎ সিং সিধুর পরিবর্তে ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে বিচারকের আসনে বসেছিলেন অর্চনা পূরণ সিং। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই শো-তে বিপুল জনপ্রিয়তা পেলেও, অর্চনার দাবি— এই জনপ্রিয়তাই তাঁর অভিনয়ের কেরিয়ারে কার্যত ইতি টেনে দিয়েছে!

হাতছাড়া হয়েছে বড় প্রজেক্ট, মুখ ফিরিয়েছেন নির্মাতারা
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অর্চনা জানান, কপিলের শো-র ব্যস্ত শিডিউলের কারণে তিনি একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, “একবার ২৫ দিনের জন্য স্কটল্যান্ডে শুটিংয়ের ডাক এসেছিল। কিন্তু বছরে ১০০টি এপিসোডের শুটিং সামলে সেই সময় বের করা অসম্ভব ছিল। বারবার ‘না’ বলতে বলতে এখন নির্মাতারা আমার কাছে আসা বন্ধই করে দিয়েছেন।”

“আমি শুধুই হাসতে জানি না!”— আক্ষেপ বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর
দীর্ঘ ৪৪ বছরের অভিনয় জীবন অর্চনার। অথচ তাঁর আক্ষেপ, ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে এখন কেবল ‘লাফটার কুইন’ হিসেবেই দেগে দিয়েছে। গম্ভীর বা শক্তিশালী কোনো চরিত্রে তাঁকে ভাবাই হচ্ছে না। অভিনেত্রী দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, “আমি যে একজন অভিনেত্রী, সেটাই মানুষ ভুলে গেছেন। সবাই ভাবেন আমি এমন একজন, যে শুধু চেয়ারে বসে হাসতে পারে।”

বলিউড সেটের কঙ্কালসার চেহারা ও প্রযোজকদের ‘কিপটেমি’
কেরিয়ারের আক্ষেপের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির অব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অর্চনা। বিশেষ করে মহিলা শিল্পী ও পর্দার পিছনের কর্মীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন:

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: শুটিং সেটে অনেক সময় পরিচ্ছন্ন শৌচাগার বা বিশ্রামের জায়গা থাকে না।

খাবারে রাশ: কিছু প্রযোজক এতটাই কৃপণ যে কর্মীদের দুপুরের খাবারে মাত্র দুটি করে রুটি দেওয়া হয়।

অমানবিক পরিস্থিতি: প্রচণ্ড গরমে ভ্যানিটি ভ্যান বা পর্যাপ্ত পানীয় জলের অভাবকে ‘অপেশাদারিত্বের চূড়ান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

এক নজরে অর্চনার অভিযোগ: জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-তে সময় দিতে গিয়ে হারিয়েছেন সিনেমার ক্যারিয়ার। সেই সাথে বলিউডের চকচকে পর্দার পিছনের ‘অমানবিক’ কাজের পরিবেশ নিয়ে সরব হয়ে এখন চর্চায় এই অভিনেত্রী।