“সন্ধে হলেই শুরু হবে বোমাবর্ষণ!” ইরানের বিরুদ্ধে চরম যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ধ্বংসের মুখে কি মধ্যপ্রাচ্য?

সময় ফুরিয়ে আসছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধে গড়াতেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু শান্তির পথে হাঁটার বদলে পরিস্থিতি এখন আরও ভয়াবহ। বিশ্ব বাণিজ্যে ধস নামিয়ে এবং তেলের বাজারে আগুন জ্বালিয়ে দুই দেশই এখন সম্মুখ সমরে।

ট্রাম্পের ‘বোমা’ মন্তব্য ও চরম আল্টিমেটাম
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ সাফ জানিয়েছেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই যদি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়, তবে আমেরিকা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তাঁর কথায়, “সংঘর্ষবিরতি শেষ হলেই বোমা বিস্ফোরণ হবে।” অর্থাৎ, শান্তি আলোচনার টেবিল থেকে ইরান সরে দাঁড়ালে সরাসরি সামরিক হামলার পথ বেছে নেবে ওয়াশিংটন।

পরমাণু শর্তে অনড় আমেরিকা
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান আজও অপরিবর্তিত। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “খুবই সহজ হিসাব— ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।” এই শর্ত ইরান মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি যে সম্ভব নয়, তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসলামাবাদে চূড়ান্ত নাটক: জেডি ভ্যান্সের ঝটিকা সফর
শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে প্রস্তুতি তুঙ্গে। আগে জেডি ভ্যান্সের যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, ট্রাম্প আজ নিশ্চিত করেছেন যে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্টই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

মার্কিন দলে কারা: জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রভাবশালী উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদের পথে।

ইরানের অবস্থান: এত আয়োজন সত্ত্বেও তেহরান এখনও আলোচনার টেবিলে আসার কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তারা এই বৈঠককে আমেরিকার ‘অতিরিক্ত দাবি’ হিসেবে দেখছে।

বিশ্বজুড়ে হাহাকার
দুই দেশের এই ইগোর লড়াইয়ে ‘উলুখাগড়া’র মতো দশা হয়েছে বাকি দেশগুলোর। বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আজ রাতের মধ্যে কোনো মিমাংসা না হয়, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব অর্থনীতি সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়বে।