বিস্ফোরক অরবিন্দ! নিজের ছেলের উদাহরণ দিতেই বিচারপতি শর্মার পাল্টা হুঁশিয়ারি; উত্তাল দিল্লির আদালত

দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় আদালত কক্ষে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। মামলার শুনানির চলাকালীন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল নিজের ছেলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি শর্মা। শুধু অসন্তোষই নয়, রীতিমতো কড়া ভাষায় কেজরিওয়ালকে ভর্ৎসনা করেন তিনি।
আদালতে ঠিক কী ঘটেছিল? আবগারি নীতি সংক্রান্ত মামলায় শুনানির সময় নিজের সপক্ষে যুক্তি দিচ্ছিলেন আম আদমি পার্টির (AAP) প্রধান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে ইডি-র (ED) তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কেজরিওয়াল বলেন, “একজন রাজনীতিবিদের সন্তান যদি রাজনীতিতে আসতে চায়, তবে কি তাকে বাধা দেওয়া হবে? রাজনীতিবিদের সন্তানরা কি রাজনীতি করতে পারবে না?”
তার এই মন্তব্যের মাধ্যমেই তিনি ইঙ্গিত করতে চেয়েছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার পরিবার বা সন্তানদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
বিচারপতির কড়া প্রতিক্রিয়া: কেজরিওয়ালের মুখে ব্যক্তিগত জীবনের এই উদাহরণ শোনার পরপরই বিচারপতি শর্মা তাকে থামিয়ে দেন। অত্যন্ত কঠোর স্বরে বিচারপতি বলেন, “আদালত কক্ষ আবেগ প্রকাশের জায়গা নয়। এখানে আইনের ভিত্তিতে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে কথা বলুন। কেন আপনি বারবার আপনার সন্তানদের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন?”
বিচারপতি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক আবেগের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি কেজরিওয়ালকে মনে করিয়ে দেন যে, আইনের চোখে সবাই সমান এবং আদালতের সময় অত্যন্ত মূল্যবান। অপ্রাসঙ্গিক তর্কে না জড়িয়ে সরাসরি মামলার আইনি দিক নিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন: আদালত কক্ষের এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেজরিওয়াল জনগণের সহানুভূতি পেতেই হয়তো ‘পারিবারিক আবেগ’ কার্ড খেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিচারপতির কড়া অবস্থান সেই চেষ্টায় জল ঢেলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়ালের অন্তর্বর্তী জামিন এবং তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলছে। আজকের এই ‘ভর্ৎসনা’ আম আদমি পার্টির জন্য নতুন অস্বস্তি তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।