“পাহারা দিন, নয়তো সর্বনাশ হবে…” জঙ্গলমহল থেকে কোন ‘অশুভ’ সঙ্কেত দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

ভোট যত এগোচ্ছে, ততই তেতে উঠছে জঙ্গলমহলের মাটি। আর সেই উত্তাপের মাঝেই এবার বিজেপির রণকৌশল নিয়ে প্রকাশ্য সভা থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুরের সভা থেকে মমতা দাবি করেন, বিজেপি ভোট বৈতরণী পার হতে অগণতান্ত্রিক পথ বেছে নিতে পারে।
মমতার নজরে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, বিজেপি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে প্রতিবেশী রাজ্যগুলি থেকে ‘বহিরাগত’ লোক নিয়ে আসছে। তাঁর দাবি:
“বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে ভয় দেখাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে অচেনা লোক দেখলে সজাগ থাকুন। ভোটের দিন উনুন না জ্বালিয়ে আগে গিয়ে বুথ পাহারা দিন, যাতে কেউ আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।”
কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে বিজেপির অভাবনীয় উত্থান তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। এবার সেই হারানো জমি পুনরুদ্ধার করাই মমতার প্রধান লক্ষ্য। দিদির আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি সাধারণ ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক যাতে কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয়, তার জন্য তিনি বারবার ‘কুড়মি’ এবং ‘আদিবাসী’ আবেগকে উসকে দিয়েছেন।
বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি
মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জঙ্গলমহলে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না। শান্তি বজায় রাখতে এবং বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ রুখতে তিনি স্থানীয় ক্লাব এবং মহিলা সংগঠনগুলোকে পাহারাদারের ভূমিকা নিতে বলেছেন। তাঁর সাফ কথা, “জঙ্গলমহল হাসছে, আর এই হাসি কেড়ে নিতে দেব না।”
পাল্টা বিজেপি শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন থেকেই অজুহাত খুঁজছেন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন।
ভোটের লড়াইয়ে জঙ্গলমহল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও মমতার এই ‘আশঙ্কা’ যে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।