দীঘা-মন্দারমণিতে পর্যটকদের ‘নো এন্ট্রি’! খালি করতে হবে হোটেল, ভোটের মুখে কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

আপনি কি এই সপ্তাহে দীঘা বা মন্দারমণিতে সমুদ্রের হাওয়া খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন? তবে আপনার জন্য রয়েছে বড় দুঃসংবাদ। বঙ্গভোটের প্রথম দফার বলি হতে চলেছে পর্যটন। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে দীঘা, মন্দারমণি এবং তাজপুরের সমস্ত হোটেলে বহিরাগত পর্যটকদের থাকার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আজই ছাড়তে হবে হোটেল!
প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আজ বিকেল ৫টার পর থেকে আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাইরের কোনও পর্যটক এই তিনটি পর্যটন কেন্দ্রে থাকতে পারবেন না। যারা অলরেডি হোটেলে রয়েছেন, তাদের আজকের মধ্যেই চেক-আউট করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে হঠাৎই হুড়োহুড়ি আর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বহু পর্যটকের ছুটির পরিকল্পনা মাঝপথেই ভেস্তে গেল।
কেন এই নজিরবিহীন কড়াকড়ি?
নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রথম দফার ভোট চলাকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।
-
বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ: অচেনা বা বাইরের জেলার লোকজনের ভিড় যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
-
নিরাপত্তা: সমুদ্র উপকূলবর্তী এই এলাকাগুলো দিয়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে বা বহিরাগতরা লুকিয়ে থাকতে না পারে, তার জন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মাথায় হাত হোটেল ব্যবসায়ীদের
এমনিতেই এপ্রিল মাস পর্যটনের জন্য বেশ ভালো সময়। তার ওপর নির্বাচনের মুখে হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন দীঘা-মন্দারমণির হোটেল মালিকরা। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটকদের এভাবে মাঝপথে বের করে দেওয়া এবং নতুন বুকিং বন্ধ রাখায় এলাকার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে।
প্রশাসনের অনড় অবস্থান
ব্যবসায়ীরা উদ্বেগে থাকলেও প্রশাসন কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড়। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ এবং স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সমস্ত হোটেল ও লজে নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মিটে না যাওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পুনরায় পর্যটকদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে।
তাই আপাতত দীঘার নীল জলরাশি নয়, নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহাওয়াতেই দিন কাটাতে হবে রাজ্যবাসীকে। বেরোনোর আগে স্থানীয় নির্দেশিকাগুলি ভালো করে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।