হাসপাতালেও মিলল না স্বস্তি! জামিনের আর্জি নাকচ, ইডি-র সাঁড়াশিপাঁটে এবার বেহালার বড় ব্যবসায়ী

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে এবার বেহালার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। কোটি কোটি টাকার রহস্যময় লেনদেনের অভিযোগে ইডি-র (Enforcement Directorate) হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরই শুরু হলো টানটান নাটক। গ্রেফতারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই ব্যবসায়ী ‘অসুস্থ’ বোধ করায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অসুস্থতার কবচ ব্যবহার করেও শেষরক্ষা হলো না; জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত তাঁকে ইডি হেফাজতেই পাঠাল।

কী ঘটেছিল?

সূত্রের খবর, আর্থিক তছরুপ এবং বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বেহালার এই ব্যবসায়ীর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি পায় ইডি। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু গ্রেফতারির কথা জানাজানি হতেই ওই ব্যবসায়ী বুকে ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তির কথা জানান। নিয়ম মেনে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতের কড়া অবস্থান

ব্যবসায়ীর আইনজীবী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে জামিনের জোরালো আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে ইডি-র তরফে কড়া বিরোধিতা করে জানানো হয়, এটি তদন্তের গতি রুদ্ধ করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থেকে জেরা চালাতে বাধা নেই।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইডির গোয়েন্দাদের দাবি, ওই ব্যবসায়ীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এমন কিছু টাকার হদিশ মিলেছে যার কোনো বৈধ নথি নেই। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির কালো টাকা সাদা করার নেপথ্যে এই ব্যবসায়ীর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাঁকে জেরা করলে আরও বড় কোনো রাঘববোয়াল ইডির জালে আসতে পারে।

আপাতত বেহালার এই ব্যবসায়ীর ঠিকানা হাসপাতাল কিম্বা জেল হেফাজত— তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও, ইডি কিন্তু তাঁকে কোণঠাসা করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে।