“টানা কয়েকদিন বন্ধ মদের দোকান!”-জেনেনিন কত কোটির লোকসান হচ্ছে রাজ্যের?

ভোটের উত্তাপে ফুটছে বাংলা, কিন্তু সেই উত্তাপ নেই মদের গ্লাসে! বিধানসভা নির্বাচনের জেরে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে লাগাতার ‘ড্রাই-ডে’ (Dry Day) বা শুষ্ক দিন ঘোষণা হওয়ায় বড়সড় আর্থিক সঙ্কটের মুখে রাজ্য আবগারি দফতর। প্রাথমিক হিসেব বলছে, এই কয়েকদিনের নিষেধাজ্ঞায় রাজ্যের কোষাগারে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ধাক্কা লাগতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, ক্ষতির অঙ্ক অনায়াসেই ৯০০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলতে পারে।

কবে কবে বন্ধ থাকছে দোকান?

নির্বাচনী বিধি মেনে গত ২০ এপ্রিল থেকেই কলকাতায় মদের দোকান বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাঝে ২৪ এপ্রিল সামান্য বিরতি এবং ২৫ এপ্রিল সন্ধে ৬টা পর্যন্ত আংশিক ছাড় থাকলেও, লড়াইটা লম্বা। এরপর ২৯ এপ্রিল এবং সবশেষে ৪ মে (ভোট গণনার দিন) পর্যন্ত দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। প্রশাসনের এই কড়া নির্দেশে কার্যত খাঁ খাঁ করছে শহরের বার ও অফ-শপগুলি।

হিসেবনিকেশ: দৈনিক কত লোকসান?

রাজ্য আবগারি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে রাজ্যের আয় ছিল প্রায় ১৮,৮৫০ কোটি টাকা। চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ২৩,০০০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে প্রতিদিন মদ বিক্রি থেকে রাজ্যের আয় হয় গড়ে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা। টানা সাড়ে ৯ দিন বিক্রি বন্ধ থাকলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

তবে উৎসব বা ভোটের মরসুমে দৈনিক বিক্রির বাজারমূল্য ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক হাজার টাকার মদ বিক্রি হলে তার মধ্যে প্রায় ৬৯০ টাকাই যায় সরকারি কোষাগারে। ফলে দোকান বন্ধ মানেই রাজ্যের বড় অঙ্কের রাজস্ব হাতছাড়া।

সংকটে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

রাজস্বের পাশাপাশি বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মসংস্থান। আবগারি শিল্পের সাথে রাজ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় ২.৮ লক্ষ মানুষ। উৎপাদন, প্যাকেজিং থেকে শুরু করে বার বা মদের দোকানের কর্মীরা—অনেকেই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। দোকান বন্ধ থাকায় তাঁদের পকেটেও টান পড়ছে।

“ড্রাই-ডে মানেই আমাদের রোজগার শেষ। বকশিশ তো মেলেই না, উল্টে অনেক সময় মালিকরা বেতন ছাড়া বাড়িতে পাঠিয়ে দেন,” আক্ষেপের সুরে জানালেন দক্ষিণ কলকাতার এক মলের কর্মী।

সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব

শুধু সরকার নয়, মদের উৎপাদনকারী সংস্থা এবং খুচরো বিক্রেতারাও এই দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞায় দিশেহারা। শিল্প মহলের মতে, দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকলে পুরো সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব ভোটের পরেও বেশ কিছুদিন বজায় থাকে।

ভোটের লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী হবে তা সময় বলবে, কিন্তু রাজস্বের হিসেবে যে রাজ্য বড়সড় ‘ড্রাই স্পেল’-এর মুখে পড়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।