I-PAC অফিসে তালা ঝুলে গেল, বাংলা ছাড়ছেই কি তবে ভোটকুশলী সংস্থা?

বঙ্গভোটের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা! তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারের মূল কাণ্ডারি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর সল্টলেক অফিস এখন খাঁ খাঁ করছে। সেক্টর ফাইভের গোদরেজ ওয়াটার সাইড বিল্ডিংয়ের ১১ তলায় যে দফতর থেকে চব্বিশ ঘণ্টা নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি হতো, সেখানে এখন ঝুলছে বড়সড় তালা। কর্মীদের হঠাৎই ইমেল পাঠিয়ে ২০ দিনের ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রহস্যময় ইমেল ও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

সূত্রের খবর, শনিবার গভীর রাতে আই-প্যাক কর্মীদের কাছে একটি ইমেল পৌঁছায়। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আগামী ২০ দিন সংস্থার কাজ বন্ধ থাকবে। যদিও মৌখিকভাবে কর্মীদের জানানো হয়েছে, কেউ চাইলে ভোট পর্যন্ত নিজেদের দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই আই-প্যাক কর্মীদের জন্য বরাদ্দ গাড়ির পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেক্টর ফাইভের অফিসটি এখন লোহার শিকল দিয়ে তালাবন্ধ।

কেন এই চরম পদক্ষেপ?

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এর নেপথ্যে রয়েছে আইনি জটিলতা। সম্প্রতি আই-প্যাকের ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেল ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই চাপের মুখে রয়েছে সংস্থাটি। শীর্ষ নেতৃত্বকে বারবার তলব করায় কৌশলী অবস্থান নিতেই কি অফিস বন্ধের সিদ্ধান্ত? ১৮ এপ্রিল কর্মীদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আইনি কারণে আপাতত অফিসের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকবে। এমনকি, অফিসের ইমেল আইডি ব্যবহার এবং বাইরের লোকের সাথে যোগাযোগ রাখতেও নিষেধ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকা আই-প্যাকের হোয়াটসঅ্যাপ মিডিয়া গ্রুপগুলোও এখন পুরোপুরি নীরব।

ভরসা দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী

এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আই-প্যাকের কোনো কর্মী কাজ হারাবেন না। প্রয়োজনে তৃণমূল কংগ্রেসই তাঁদের বেতনের দায়িত্ব নেবে। অন্যদিকে, দলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর মতে, আই-প্যাকের কাজ বন্ধ হওয়ার খবর ভিত্তিহীন এবং কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে দল সবরকম ব্যবস্থা নেবে।

ভোটের ময়দানে কতটা ক্ষতি হবে তৃণমূলের?

তৃণমূলের হয়ে প্রতিটি বুথ স্তরের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রচারের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করত আই-প্যাক। কোন এলাকায় কতজন সমর্থক আছেন, তাঁদের মন পেতে কী কী করণীয়—সবই ছিল এই সংস্থার নখদর্পণে। যদিও তৃণমূলের দাবি, প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও কৌশল তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। তবে নির্বাচনের দিন ভোটারদের বুথমুখী করার যে সমন্বয় আই-প্যাক করত, তাতে বিঘ্ন ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

তৃণমূল শিবির এই পুরো ঘটনাটিকে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের মুখে প্রচারের মূল যন্ত্রটিকে পঙ্গু করে দিতেই দিল্লি থেকে ইডি-সিবিআই দিয়ে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।

আপাতত আই-প্যাক কর্মীরা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করলেও, সেই আগের মতো সুসংগঠিতভাবে কাজ হবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার প্রচার শেষ হওয়ার ঠিক আগে এই ডামাডোল তৃণমূলের নির্বাচনী ফলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার।