বিজেপির ট্রাম্প কার্ড যোগী! হিন্দুত্ব অস্ত্রেই কি গড়বেতা দখল করবে গেরুয়া শিবির? তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি!

২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে এবার সম্মুখ সমরে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ লোধার সমর্থনে বিশাল জনসভা করেন তিনি। সভার শুরু থেকেই যোগীর নিশানায় ছিল তৃণমূলের ‘তুষ্টির রাজনীতি’। গেরুয়া উত্তরীয় কাঁধে নিয়ে যোগী এদিন সাফ জানিয়ে দেন, বাংলার সনাতনী সংস্কৃতি ফেরাতে বিজেপির কোনো বিকল্প নেই।

হিন্দুত্ব অস্ত্রেই শান: গড়বেতার সভা থেকে যোগী আদিত্যনাথ সরাসরি ধর্মের আবেগকে ছুঁয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় রামনবমী পালন করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়, কিন্তু বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের তোষণ করা হয়। তিনি বলেন:

“বাংলা সেই পবিত্র ভূমি যেখানে স্বামী বিবেকানন্দ এবং ঋষি অরবিন্দ জন্মেছিলেন। কিন্তু আজ এখানে অরাজকতা চলছে। উত্তরপ্রদেশে অপরাধীরা আজ জেলে নয়তো পরলোকে, বাংলায় সেই ‘বুলডোজার মডেল’ আনতে প্রদীপ লোধাকে জেতানো দরকার।”

তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি: রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে যোগী দাবি করেন, তৃণমূলের হাতে বাংলার নারীরা সুরক্ষিত নন। সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, মা-বোনেদের ওপর যারা অত্যাচার করেছে, তাদের রক্ষা করছে এই সরকার। প্রদীপ লোধাকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো দুর্নীতির হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করা।

প্রদীপ লোধার প্রতিক্রিয়া: এদিনের সভায় যোগীর পাশে দাঁড়িয়ে উজ্জীবিত দেখায় বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ লোধাকে। তিনি বলেন, যোগীজির আসা গড়বেতার মানুষের মনোবল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এলাকার মানুষ পরিবর্তনের জন্য তৈরি।

তৃণমূলের পাল্টা তোপ: যোগী আদিত্যনাথের সফরের তীব্র প্রতিবাদ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, উত্তরপ্রদেশ থেকে ‘বিষ’ ছড়াতে এসেছেন যোগী। বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়, এখানে বাইরের কোনো নেতার হিন্দুত্বের রাজনীতি খাটবে না।

ডেইলিয়ান্ট বিশেষ বিশ্লেষণ: গড়বেতা একসময় রাজনৈতিক হিংসার জন্য পরিচিত ছিল। সেই মাটিতে দাঁড়িয়ে যোগীর এই ‘বুলডোজার’ তত্ত্ব এবং হিন্দুত্বের ডাক আদতে মেরুকরণের রাজনীতির কৌশল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ২০২৬-এর ভোটে এই ফ্যাক্টরটি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা বোঝা যাবে ইভিএম খুললে।