এক লিটার তেল শেষ হতে লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড! যুদ্ধবিমানের জ্বালানি খরচ সাধারণ গাড়ির চেয়ে কত গুণ বেশি?

আমরা যখন নতুন গাড়ি কিনি, তখন সবার আগে প্রশ্ন করি— “এক লিটারে কত কিলোমিটার যাবে?” কিন্তু আপনি কি জানেন, একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে এই হিসেবটা একেবারেই উল্টো? আকাশপথে শত্রুর ঘুম উড়িয়ে দেওয়া এই যুদ্ধবিমানগুলোর জ্বালানি খরচ শুনলে আপনি অবাক হতে বাধ্য। এদের মাইলেজ কিলোমিটারে নয়, বরং মিটারে হিসেব করা হয়।
১ লিটারে কতটা পথ?
একটি সাধারণ মধ্যম পাল্লার যুদ্ধবিমান (যেমন রাফাল বা এফ-১৬) আদর্শ পরিস্থিতিতে এক লিটার জ্বালানিতে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ ১ কিলোমিটার পথ যেতে এদের প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন।
পরিস্থিতিভেদে বদলায় জ্বালানি খরচ:
যুদ্ধবিমানের মাইলেজ স্থির থাকে না; এটি নির্ভর করে ওড়ার গতির ওপর:
-
স্বাভাবিক গতি (Subsonic Cruise): এই সময় মাইলেজ সবচেয়ে ভালো থাকে (লিটারে প্রায় ৩৫০-৪০০ মিটার)।
-
আফটারবার্নার মোড (Afterburner): যখন বিমানটি যুদ্ধের সময় চরম গতিবেগ বা সুপারসনিক স্পিডে পৌঁছায়, তখন জ্বালানি খরচ ৩ থেকে ৪ গুণ বেড়ে যায়। তখন ১ লিটার তেলে বিমানটি হয়তো ১০০ মিটারও যেতে পারে না!
কেন এত বেশি খরচ?
যুদ্ধবিমানগুলো বিশাল শক্তিশালী ইঞ্জিন (Turbofan Engine) ব্যবহার করে যা প্রতি সেকেন্ডে বিপুল পরিমাণ বাতাস এবং জ্বালানি দহন করে। এদের লক্ষ্য মাইলেজ দেওয়া নয়, বরং চরম গতি এবং শক্তি প্রদর্শন করা। উদাহরণস্বরূপ, একটি রাফাল বিমান আকাশে ওড়ার প্রস্তুতির সময় (ট্যাক্সিইং এবং টেক-অফ) যতটা জ্বালানি পোড়ায়, তা দিয়ে একটি সাধারণ গাড়ি কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে।
জ্বালানি হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়?
যুদ্ধবিমানে আপনার গাড়ির মতো পেট্রোল বা ডিজেল ব্যবহৃত হয় না। এতে ব্যবহৃত হয় এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF), যা অত্যন্ত পরিশোধিত কেরোসিন জাতীয় জ্বালানি। এতে বিশেষ কিছু অ্যান্টি-ফ্রিজিং উপাদান থাকে যাতে অত্যন্ত উঁচুতে বা হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রাতেও জ্বালানি জমে না যায়।
পরের বার যখন মাথার ওপর দিয়ে কোনো যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখবেন, মনে রাখবেন— তার প্রতি মিটারের গর্জন কিনতে খরচ হচ্ছে লিটার লিটার দামী জ্বালানি!