টিসিএস-এ ‘কর্পোরেট জিহাদ’? যৌন হেনস্থার পাশাপাশি ধর্মান্তরণের চাপ, চাঞ্চল্যকর বয়ানে কাঁপছে আইটি দুনিয়া!

স্বনামধন্য আইটি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক শাখায় ঘটে চলা দীর্ঘ ৪ বছরের ‘অন্ধকার’ অধ্যায় এবার জনসমক্ষে। ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত চলা এক ভয়ঙ্কর যৌন হেনস্থা এবং মানসিক নির্যাতনের বিবরণ দিয়েছেন একাধিক নারী কর্মী। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন সংস্থার এইচআর প্রধানও।

ভয়াবহ যৌন হেনস্থার বিবরণ: এফআইআর-এ নির্যাতিতারা যে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, তা শিউরে ওঠার মতো। জনৈক কর্মীর বয়ান অনুযায়ী:

“কাজের অছিলায় ডেস্কে এসে অশালীনভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দেওয়া হত। কখনও আঁচল ধরে টানা হত, কখনও আবার প্রকাশ্যেই ঊরুতে হাত দিত অভিযুক্তরা। এমনকি কুপ্রস্তাব দিয়ে হোটেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করা হত।”

অন্য এক নির্যাতিতার অভিযোগ, সহকর্মীরা ক্রমাগত তাঁর বুকের দিকে তাকিয়ে অশালীন মন্তব্য করত এবং কাজ দেওয়ার নাম করে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার দাবি তুলত।

ধর্মীয় নিগ্রহ ও ‘কর্পোরেট জিহাদ’: তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ, নিদা খান নামের এক কর্মী এবং আরও কয়েকজন মিলে একটি চক্র চালাতেন। সেখানে হিন্দু নারী কর্মীদের জোর করে আমিষ খাবার খাওয়ানো, নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে বাধ্য করা এবং ধর্মান্তরণের জন্য ক্রমাগত ‘ব্রেনওয়াশ’ করার অভিযোগ উঠেছে।

এইচআর-এর ভূমিকা ও পুলিশের ব্যবস্থা: অভিযোগ উঠেছে, টিসিএস-এর এইচআর প্রধান অশ্বিনী চেইনানি সমস্ত ঘটনা জেনেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং নির্যাতিতাদের বলা হত, “কর্পোরেট দুনিয়ায় এসব তো হয়েই থাকে, মানিয়ে নিন।” অভিযোগকারীদের মুখ বন্ধ রাখতে ভয়ও দেখানো হত। শেষ পর্যন্ত এক সাহসী নারী কর্মী পুলিশের দ্বারস্থ হলে পুরো চক্রটি সামনে আসে।

সংস্থার পদক্ষেপ: ঘটনা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে টাটা গ্রুপ। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘অত্যন্ত পীড়াদায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন। অভিযুক্ত ৮ জন কর্মীকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং সংস্থার অভ্যন্তরে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

ডেইলিয়ান্ট বিশেষ বিশ্লেষণ: নামী কর্পোরেট সংস্থায় POSH (যৌন হেনস্থা প্রতিরোধ আইন) আইন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চার বছর ধরে এই নারকীয় কাণ্ড চলল, তা বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই ঘটনা আইটি সেক্টরে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।