বইপোকা নয়, হতে হবে কৌশলী! সিবিএসই টপার আরশার রেজাল্ট দেখে থ নেটপাড়া, কীভাবে এল ১০০-তে ১০০?

সিবিএসই (CBSE) দশম শ্রেণির ফলাফলে এক বিরল ও অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব অর্জন করল গুরুগ্রামের ছাত্রী আরশা সায়রা জোশী। সব ক’টি বিষয়ে পূর্ণমান অর্থাৎ ১০০-তে ১০০ পেয়ে মোট ৬০০-র মধ্যে ৬০০ নম্বর অর্জন করেছে সে। যদিও সিবিএসই বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মেধাতালিকা প্রকাশ করে না, তবুও আরশার এই অভূতপূর্ব স্কোর তাকে দেশের অন্যতম সম্ভাব্য শীর্ষস্থানাধিকারী হিসেবে তুলে ধরেছে।

কীভাবে এল এই ১০০% সাফল্য? আরশার মতে, এই সাফল্যের পিছনে কোনও জাদুকরী শক্তি নেই, বরং রয়েছে কঠোর শৃঙ্খলা এবং সঠিক পরিকল্পনা। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে তাঁর সাফল্যের মূল ৩টি মন্ত্র ভাগ করে নিয়েছে:

  • বেসিক কনসেপ্টে জোর: আরশা জানিয়েছে, সে কখনওই মুখস্থ বিদ্যার ওপর ভরসা করেনি। প্রতিটি বিষয়ের মূল ধারণা বা ‘বেসিক কনসেপ্ট’ পরিষ্কার করতে এনসিইআরটি (NCERT) বই খুঁটিয়ে পড়েছে সে।

  • নিজস্ব নোট তৈরি: অন্যের তৈরি নোটের বদলে সে নিজে প্রতিটি অধ্যায় পড়ে নিজের মতো করে ছোট ছোট নোট তৈরি করত। এটি তাকে পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন দিতে সাহায্য করেছে।

  • নিয়মিত রিভিশন: আরশার মতে, “একবার পড়া নয়, বারবার রিভিশন দেওয়াটাই আসল।” নিয়মিত মক টেস্ট এবং আগের বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করে সে নিজের দুর্বলতাগুলো শুধরে নিত।

বইপোকা নয়, বরং কৌশলী আরশা আরও জানিয়েছে যে, সে সারাদিন শুধু বই নিয়ে বসে থাকত না। পড়াশোনার মাঝে বিরতি নেওয়া এবং শখের কাজ করাও যে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি, তা মনে করিয়ে দিয়েছে এই কৃতি ছাত্রী। “ক্লান্ত হয়ে ১০ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে মন দিয়ে ৩ ঘণ্টা পড়াও অনেক বেশি কার্যকর,”— মত আরশার।

সিবিএসই ২০২৬ ফলাফলের পরিসংখ্যান উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল সিবিএসই দশম শ্রেণির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯৩.৭০%। বরাবরের মতো এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো ফল করেছে (মেয়েদের পাশের হার ৯৪.৯৯%)। দেশজুড়ে ২.২ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেলেও আরশার মতো ‘পারফেক্ট স্কোর’ খুব কম পড়ুয়াই অর্জন করতে পেরেছে।

আরশার এই সাফল্যে খুশি তাঁর পরিবার ও গুরুগ্রামের স্কুল কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে গবেষণামূলক কাজ বা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছে রয়েছে এই মেধা ছাত্রীর।