“রান্না ফেলে বুথে আসুন…” ভোটের সকালে বিশেষ কৌশলের কথা শোনালেন মমতা, শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে!

নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যেই এবার বাংলার মা-বোনেদের জন্য এক অভূতপূর্ব বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের দিন সকালে উনুন না জ্বালিয়ে বরং ‘পান্তা ভাত’ খেয়ে দ্রুত বুথে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক সভা থেকে দিদির এই বিশেষ টিপস এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।

কেন এমন বললেন মমতা?

সাধারণত গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় মহিলারা বাড়ির রান্নাবান্না ও ঘরকন্নার কাজ সেরে দুপুরের দিকে ভোট দিতে যান। মমতার আশঙ্কা, মহিলারা দেরি করে বুথে পৌঁছালে সেই সুযোগে ‘ভোট লুঠ’ বা কারচুপি হতে পারে। তাই মা-বোনেদের সজাগ করতে তিনি বলেন:

“ভোটের দিন সকাল সকাল তৈরি হয়ে যান। উনুন ধরাবেন না, পান্তা ভাত খেয়ে নিন। আগে গিয়ে নিজের ভোটটা দিয়ে আসুন, তারপর এসে যা খুশি রান্না করবেন।”

মমতার বিশেষ রণকৌশল

রাজনৈতিক মহলের মতে, মহিলা ভোটাররা তৃণমূলের অন্যতম বড় ‘ভোটব্যাঙ্ক’। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী মহিলাদের উপস্থিতি যাতে বুথে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই ‘পান্তা ভাত’ দাওয়াই। দিদি স্পষ্ট করেছেন যে, মহিলারা যদি সকালে জোটবদ্ধ হয়ে বুথে পৌঁছে যান, তবে কোনো অপশক্তিই ভোটদানে বাধা দিতে পারবে না।

বিরোধীদের কটাক্ষ

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু করেছে বিরোধী শিবির। বিজেপি ও বামেদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন ভোটারদের এভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বিরোধীদের কথা গায়ে না মেখে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা ‘দিদি’-র এই নির্দেশকে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে শুরু করেছেন।

পান্তা ভাতেই বাজিমাত?

বাংলার সংস্কৃতিতে পান্তা ভাতের এক আলাদা আবেগ রয়েছে। সেই আবেগকে ছুঁয়ে দিয়ে মহিলারা যাতে ঘরের কাজের অজুহাতে ভোটদান না এড়িয়ে যান, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দেখার, ভোটের দিন পান্তা ভাত খেয়ে মা-বোনেরা কতটা ভিড় জমান বুথে।