ভোটের মুখে তপ্ত আরজি কর ইস্যু! “প্রকৃত দোষীরা আড়ালেই রয়ে গেল”, বিস্ফোরক দাবি রত্না দেবনাথের

আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ছাত্রীর নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার বড়সড় দাবি তুললেন বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। নির্বাচনী প্রচারের ময়দান থেকে তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, এই নারকীয় কাণ্ডে ধৃত সঞ্জয় রায় একা দোষী হতে পারে না। তাঁর দাবি, বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ধামাচাপা দিতে সঞ্জয়কে স্রেফ বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সঞ্জয় রায় কি কেবল দাবার চাল? রত্না দেবনাথ এদিন প্রচারের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “সঞ্জয় রায় একা এত বড় ঘটনা ঘটাতে পারে না। আরজি করের মতো জায়গায় সিসিটিভি থেকে শুরু করে নিরাপত্তার যে জাল ছিল, সেখানে বাইরের বা নিচুতলার একজনের পক্ষে সবটা করা অসম্ভব। আসল অপরাধীরা বড় বড় চেয়ারে বসে আছে, তাঁদের আড়াল করতেই সঞ্জয়কে সামনে রাখা হয়েছে।”

তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, ঘটনার শুরু থেকেই তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “প্রথম থেকেই রাজ্য প্রশাসন যেভাবে এই বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তা থেকেই স্পষ্ট যে সঞ্জয় রায়ের পেছনে প্রভাবশালী কারোর হাত রয়েছে। আমরা চাই কেন্দ্রীয় সংস্থা এই রহস্যের শেষ পর্যন্ত পৌঁছাক এবং আসল ‘রাঘববোয়াল’দের টেনে বের করুক।”

ভোটের আবহে তপ্ত আরজি কর ইস্যু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক কেন্দ্রেই আরজি কর কাণ্ড একটি প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। রত্না দেবনাথের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল।

পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের রত্না দেবনাথের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, আদালত ও কেন্দ্রীয় সংস্থা ঘটনার তদন্ত করছে। নির্বাচনের আগে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য বিজেপি ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তদন্তের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এখন দেখার, রত্না দেবনাথের এই বিস্ফোরক দাবির পর তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘোরে কি না।