বিপাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অফিসার! সল্টলেকে হাজিরা না দেওয়ায় বাড়ছে জল্পনা

ফের সংবাদের শিরোনামে কলকাতা পুলিশের ডিসি (ডেপুটি কমিশনার) শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। রবিবার তাঁর বাড়িতে ম্যারাথন অভিযানের পর সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে (CGO Complex) ইডি দপ্তরে তলব করা হয়েছিল এই প্রভাবশালী পুলিশকর্তাকে। কিন্তু দিনভর পেরিয়ে গেলেও হাজিরা দিলেন না তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে— কোথায় গেলেন শান্তনু সিংহ বিশ্বাস?

বাড়িতেই আছেন না কি উধাও? তুঙ্গে ধোঁয়াশা

রবিবার ভোর থেকে বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে শান্তনুর বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযানের সময় এই পোড় খাওয়া পুলিশ অফিসার বাড়িতে ছিলেন না। কিন্তু এই তথ্যের একদম উল্টো দাবি করেছেন তাঁর ছেলে। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, তাঁর বাবা বাড়িতেই আছেন। এই বৈপরীত্যের মাঝেই সোমবার সিজিও-তে গরহাজিরা রহস্যকে আরও গভীর করেছে।

কেন ইডির নজরে এই পুলিশকর্তা?

সূত্রের খবর, কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু এবং প্রোমোটার জয় কামদারের সঙ্গে শান্তনু সিংহের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে:

  • সিণ্ডিকেট যোগ: তোলাবাজি ও সিণ্ডিকেট চক্রের টাকা প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • পুরানো মামলা: এর আগেও কয়লা পাচার মামলায় তাঁকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছিল।

  • কাকতালীয় সংযোগ: তিনি একসময় কালীঘাট থানার ওসির দায়িত্বেও ছিলেন, যে এলাকাটি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাসস্থান। বর্তমানে তিনি কলকাতা পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির অন্যতম প্রধান।

রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ

এই অভিযান নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “যিনি আমার নিরাপত্তার তদারকি করেন, তাঁর বাড়িতেও রেইড হচ্ছে। ওরা কি আমাকে মেরে ফেলতে চায়?” অন্যদিকে, জয় কামদার নামে এক ব্যবসায়ীকে ইতিমিধ্যেই গ্রেফতার করেছে ইডি। কিন্তু খোদ পুলিশকর্তার ‘বেপাত্তা’ হওয়ার ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।

শহর জুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন— হাজিরা এড়িয়ে কি আরও বিপাকে পড়ছেন ডিসি শান্তনু? তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।