বাজেটে ঘোষণা হলেও কেন মিলল না ৪% ডিএ? নবান্নের নিশানায় এবার নির্বাচন কমিশন!

৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছে বাজেটে, কিন্তু হাতে টাকা আসার সময় হতেই দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। এপ্রিল মাস পেরিয়ে মে মাস দোরগোড়ায়, অথচ এখনও বর্ধিত ডিএ-র বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি নবান্ন। এই নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রের দাবি, কমিশনের অনুমতির অভাবেই ঝুলে রয়েছে সরকারি কর্মীদের ভাগ্য।
কেন জারি হলো না বিজ্ঞপ্তি?
গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ৪ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন। কথা ছিল, ১ এপ্রিল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং মে মাসের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত টাকা পাবেন কর্মীরা। কিন্তু এর মাঝেই লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ায় জারি হয়ে যায় ‘আদর্শ আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct)। নবান্নের দাবি, ভোটের মাঝে ডিএ বাড়াতে গেলে নির্বাচন কমিশনের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক।
বল এখন কমিশনের কোর্টে:
জানা গিয়েছে, ডিএ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করার অনুমতি চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠি এখন দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে বিচারাধীন। কমিশন থেকে সবুজ সংকেত না আসা পর্যন্ত নবান্নের হাত-পা বাঁধা।
মমতার আশ্বাস ও বর্তমান পরিস্থিতি:
বিজ্ঞপ্তি না আসলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু তাঁর প্রতিশ্রুতিতে অনড়। শনিবার সোনারপুরের জনসভা থেকেও তিনি সাফ জানিয়েছেন, “বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ শীঘ্রই দিয়ে দেওয়া হবে।”
একনজরে ডিএ-র অংক:
বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ১৮% হারে ডিএ পাচ্ছেন।
নতুন ৪% যুক্ত হলে মোট ডিএ দাঁড়াবে ২২%।
এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬-১৮ সালের বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সরকার।
এখন দেখার, দিল্লির নির্বাচন কমিশন মুখ্যসচিবের চিঠির জবাবে কী জানায়। মে মাসের বেতনের স্লিপে কি বাড়তি টাকার দেখা পাবেন কর্মীরা? উত্তর লুকিয়ে আছে কমিশনের খামে।