ভোট আসে ভোট যায়, খড়দহবাসীর কপালে শুধুই যানজট! উড়ালপুলের দাবি কি এবারও থেকে যাবে ফাইলবন্দি?

ভোট আসে, প্রতিশ্রুতি ঝরে পড়ে, কিন্তু বদলায় না খড়দহ স্টেশন রোডের ছবিটা। উত্তর ২৪ পরগনার এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিদিনের যাতায়াত মানেই এক চরম বিভীষিকা। খড়দহ স্টেশনের ব্যস্ততম লেভেল ক্রসিং আর তার দীর্ঘ যানজট এখন স্থানীয়দের জীবনের নিত্যসঙ্গী। নির্বাচনের মুখে উড়ালপুল ইস্যু নিয়ে মানুষের মনের কথা জানতে বেরিয়েছিল সংবাদমাধ্যম, আর সেখানেই উঠে এল একরাশ ক্ষোভ।

কেন অতিষ্ঠ খড়দহবাসী?
খড়দহ স্টেশনের দুই প্রান্তেই রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব পরিষেবা কেন্দ্র।

পশ্চিম দিকে: বলরাম সরকারি হাসপাতাল, খড়দহ থানা, বিটি রোড এবং নাথুপাল শ্মশান।

পূর্ব দিকে: রামকৃষ্ণ মিশন, বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম ও ঐতিহাসিক হরিসভা মন্দির।
হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় হোক বা অফিস যাত্রী— লেভেল ক্রসিংয়ের গেট পড়লে থমকে যায় গোটা শহর। অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ, যা মাঝেমধ্যে প্রাণহানির কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

রেললাইনের বেহাল দশা:
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশনের লেভেল ক্রসিং সংলগ্ন রেললাইনের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ভাঙাচোরা লাইনে মাঝেমধ্যেই গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন রোজকার ঘটনা। এর ফলে যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দীর্ঘদিনের এই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি— একটি ফ্লাইওভার বা উড়ালপুল।

রাজনীতির প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা:
খড়দহের মানুষের ক্ষোভের আসল কারণ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর উদাসীনতা। নির্বাচনের আগে ডান-বাম সব পক্ষের নেতারাই উড়ালপুল তৈরির লম্বা চওড়া প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট মিটলেই সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয় না। ফলে প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও সেই পুরনো ক্ষত আবার তাজা হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এবার আর শুধু প্রতিশ্রুতিতে চিঁড়ে ভিজবে না। খড়দহের উড়ালপুল কি আদৌ বাস্তব রূপ পাবে? নাকি ফের রাজনীতির রঙে চাপা পড়ে যাবে সাধারণ মানুষের আর্তনাদ? উত্তর খুঁজছে খড়দহবাসী।