“একটা গুলি চালালে, দুটো চালাব!” বাংলা-অসম পুলিশ নিয়ে হিমন্তের রণহুঙ্কার, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

নির্বাচনী আবহে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়ল কয়েক গুণ। জলপাইগুড়ির সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর সরাসরি হুঁশিয়ারি, “একটা গুলি চালালে, দুটো গুলি চালাব। বাংলায় পুলিশ থাকলে, অসমেও পুলিশ আছে।” উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে হিমন্তের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মমতাকে কড়া খোঁচা হিমন্তের:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে হিমন্ত বিশ্বশর্মা এদিন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সব সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করতে ব্যস্ত থাকেন। তাঁর মুখে রাম বা দুর্গার নাম শোনা যায় না, তিনি সারাদিন শুধু মোদী-শাহর নাম জপেন।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেও লাভ হবে না। তৃণমূলকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলীরা আমার সামনে দাঁড়াতে পারবে না। টক্কর এবার সমানে সমানে হবে।”

তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ:
হিমন্তের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ করেন, “একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি খোলাখুলি গৃহযুদ্ধের ডাক দিচ্ছেন। এর থেকে খারাপ রাজনীতি আর কিছু হতে পারে না।” তৃণমূলের প্রশ্ন, একজন সাংবিধানিক পদে থেকে এই ধরনের প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার পরেও প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন নীরব? জয়প্রকাশের মতে, এই ধরণের মন্তব্য দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে উন্নয়নের ইস্যুকে ছাপিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির রাজনীতি এখন চরমে। হিমন্তের এই ‘গুলি’র হুঁশিয়ারি কেবল কথার লড়াই নয়, বরং বাংলা-অসম সীমান্তে আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।