পেট্রো-ডলারের বিদায় ঘণ্টা? এবার চিনা মুদ্রায় তেল বিক্রির হুঁশিয়ারি আমিরশাহির, প্রবল চাপে ট্রাম্প!

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ যত গড়াচ্ছে, ততই বদলে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ। এতদিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের লেনদেনে ডলারের যে একচেটিয়া দাপট ছিল, তা এবার কার্যত খাদের কিনারায়। খোদ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) এবার আমেরিকাকে সাফ জানিয়ে দিল— যুদ্ধ না থামলে এবং ডলারের জোগান স্বাভাবিক না হলে তারা চিনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এ তেল বিক্রি শুরু করবে।

কেন এই সংঘাত?
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের কারণে আমিরশাহির প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আটকে আছে। এছাড়া যুদ্ধের তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোও। এই ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে ট্রাম্প সরকারের কাছে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তারা।

ইউয়ানের পথে মধ্যপ্রাচ্য:
আমিরাতের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের গভর্নর খালেদ মহম্মদ বালামা গত সপ্তাহেই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন:

বাজারে ডলারের সহজলভ্যতা কমে যাওয়ায় বিকল্প মুদ্রা হিসেবে চিনা ইউয়ান ব্যবহারের কথা ভাবছে UAE।

ইমার্জেন্সি ডলার সাপোর্ট না পেলে দ্রুত এই পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।

সম্প্রতি ভারতের কিছু বেসরকারি সংস্থাও চিনা ইউয়ানে ইরানের তেল কিনেছে, যা এই প্রবণতাকে আরও উস্কে দিয়েছে।

পেট্রো-ডলারের ইতিহাস ও ঝুঁকি:
১৯৭০-এর দশক থেকে আমেরিকা ও সৌদি আরবের মধ্যে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে ডলারের মাধ্যমে তেল কেনাবেচা চলে আসছে। এর বদলে দেশগুলোকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে আমেরিকা। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধে আরব দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে দেখে সেই পুরনো অবস্থান থেকে সরতে শুরু করেছে।

ট্রাম্পের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ:
ডলারের বদলে চিনা মুদ্রায় তেলের লেনদেন শুরু হওয়া মানে মার্কিন অর্থনীতির ভিত নড়ে যাওয়া। ট্রাম্প প্রশাসন এখন একদিকে যুদ্ধ সামলাবে, নাকি পুরনো বন্ধুদের মানিয়ে ডলারের মর্যাদা রক্ষা করবে— সেটাই এখন দেখার। বিশ্ব অর্থনীতি যে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।