স্বাস্থ্য দফতরের নিষেধাজ্ঞা খারিজ! সারোগেসি নিয়ে বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের, আশার আলো নিঃসন্তান দম্পতিদের

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর লড়াইয়ের অবসান। কলকাতা হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে নতুন করে মা-বাবা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন দার্জিলিংয়ের এক নিঃসন্তান দম্পতি। সারোগেসি আইনের জটিলতায় যে পথ আটকে গিয়েছিল, আদালতের নির্দেশে তা এখন প্রশস্ত।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
দার্জিলিংয়ের ওই দম্পতি স্বাভাবিক পদ্ধতিতে সন্তান লাভে ব্যর্থ হওয়ার পর আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্বারস্থ হন। প্রথমে আইভিএফ (IVF) পদ্ধতিতে চেষ্টা করলেও সাফল্য আসেনি। এরপর তাঁরা সারোগেসি বা গর্ভদান পদ্ধতির সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁরা প্রয়োজনীয় শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেন এবং অক্টোবর মাসে স্বাস্থ্য ভবন থেকে ছাড়পত্রও মেলে। সংগৃহীত ভ্রূণটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হিমায়িত অবস্থায় (Cryopreserved) সংরক্ষণ করা হয়।
আইনি জটিলতা ও আদালতের হস্তক্ষেপ:
দম্পতি যখন সারোগেসির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে যান, তখন বাধা হয়ে দাঁড়ায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ‘সারোগেসি আইন ২০২১’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বয়সসীমা অতিক্রম করার দোহাই দিয়ে তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন দম্পতি।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ:
মামলাটি শোনেন বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরী। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, মহিলা যখন আবেদন করেছিলেন তখন তিনি নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যেই ছিলেন। ভ্রূণ সংরক্ষণের প্রক্রিয়াও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি স্পষ্ট জানান:
“মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী মহিলা সক্ষম। সন্তান লাভের এই শেষ চেষ্টা থেকে কোনো কর্তৃপক্ষই দম্পতিকে বঞ্চিত করতে পারে না।”
এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত:
আদালত দম্পতিকে দ্রুত সারোগেসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে, এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কারণ, সরকারি লাল ফিতের ফাঁসে অনেক সময়ই আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ। হাইকোর্টের এই নির্দেশ প্রমাণ করল যে, মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের অধিকার কেবল বয়সের বেড়াজালে আটকে রাখা যায় না।
দার্জিলিংয়ের এই দম্পতির ঘরে খুব শীঘ্রই নতুন অতিথি আসবে—এই আশায় এখন বুক বাঁধছে পাহাড়ের সেই পরিবার। আদালতের এই মানবিক রায়ে খুশি আইন ও চিকিৎসা মহল।