রান্নার গ্যাসের আকাল? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সংকটে ভারত, একধাক্কায় ১৩% কমল এলপিজি-র ব্যবহার!

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান রণক্ষেত্রের আঁচ এবার সরাসরি ভারতের রান্নাঘরে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের আবহে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় মার্চ মাসে ভারতে রান্নার গ্যাসের (LPG) ব্যবহারে নজিরবিহীন পতন দেখা দিয়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এলপিজি ব্যবহার একধাক্কায় ১৩ শতাংশ কমে গিয়েছে।
সংকটের মূলে হরমুজ প্রণালী:
ভারতের জ্বালানি আমদানির জন্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রধান উৎস। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট জটিলতার কারণে সেখান থেকে এলপিজি আসা কার্যত থমকে গিয়েছে। এর ফলে:
মার্চ মাসে এলপিজি ব্যবহার কমে দাঁড়িয়েছে ২.৩৭৯ মিলিয়ন টন।
সাধারণ মানুষের হাড়িতে টান যাতে না পড়ে, তাই সরকার হোটেল ও শিল্পক্ষেত্রে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি বিক্রি প্রায় ৪৮ শতাংশ কমেছে।
সরকারের দাবি বনাম বাস্তবতা:
পিপিএসি (PPAC)-এর তথ্য অনুযায়ী, গার্হস্থ্য ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এলপিজি বিক্রি ৮.১ শতাংশ কমেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে ঘরোয়া চাহিদা মেটাতে কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। ভারতের ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর লড়াই:
বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের শোধনাগারগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের বদলে এলপিজি উৎপাদনে জোর দেওয়ায় মার্চ মাসে উৎপাদন বেড়ে ১.৪ মিলিয়ন টন হয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এলপিজি উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.১ মিলিয়ন টনে।
পেট্রোল-ডিজেলে উল্টো ছবি:
আশ্চর্যজনকভাবে, গ্যাসের চাহিদা কমলেও পেট্রোল ও ডিজেলের বাজার কিন্তু বেশ চনমনে।
পেট্রোলের ব্যবহার ৭.৬ শতাংশ বেড়ে ৩.৭৮ মিলিয়ন টন হয়েছে।
ডিজেলের চাহিদা ৮.১ শতাংশ বেড়ে ৮.৭২৭ মিলিয়ন টন ছুঁয়েছে।
তবে আকাশপথে বিধিনিষেধ থাকায় জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির চাহিদা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আগামী দিনে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাধারণ মানুষের পকেটে এর কতটা প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার।