স্মার্ট মিটার আতঙ্কে ইতি! উত্তরপ্রদেশে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বিরাট ঘোষণা—ছুটির দিনেও জ্বলবে আলো!

উত্তরপ্রদেশে স্মার্ট মিটার নিয়ে চলা দীর্ঘ টালবাহানার অবসান ঘটালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী এ কে শর্মা। গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে রাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের জন্য এমন কিছু ঘোষণা করেছেন যা সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

৩ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ ও নেগেটিভ ব্যালেন্স

এখন থেকে প্রিপেইড মিটারে টাকা শেষ হয়ে গেলেও ঘুটঘুটে অন্ধকারে থাকতে হবে না গ্রাহকদের। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:

  • ৩ দিনের গ্রেস পিরিয়ড: ব্যালেন্স শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী ৩ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না।

  • ২০০ টাকার ব্যাকআপ: ২ কিলোওয়াট পর্যন্ত লোডের সংযোগে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেগেটিভ ব্যালেন্স থাকলেও বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল থাকবে।

  • ছুটির দিনে সুরক্ষা: রবিবার, কোনো উৎসব বা সরকারি ছুটির দিনে ব্যালেন্স ফুরিয়ে গেলেও কোনোভাবেই লাইন কাটা যাবে না।

বন্ধ হচ্ছে স্মার্ট মিটার প্রতিস্থাপন

বিদ্যুৎমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্মার্ট মিটারের প্রযুক্তিগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পুরনো মিটার বদলে নতুন স্মার্ট-প্রিপেইড মিটার বসানোর কাজ স্থগিত থাকবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই প্রযুক্তিগত পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৫ স্তরের অ্যালার্ট সিস্টেম: আপনার ফোনে আসবে বার্তা

গ্রাহকদের সচেতন করতে একটি অত্যাধুনিক S.M.S অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালু করছে বিদ্যুৎ দপ্তর:

  1. ব্যালেন্স ৩০ শতাংশে নামলে প্রথম সতর্কবার্তা।

  2. ব্যালেন্স ১০ শতাংশ হলে দ্বিতীয় বার্তা।

  3. টাকা শেষ হয়ে গেলে তৃতীয় বার্তা।

  4. সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঠিক একদিন আগে চতুর্থ বার্তা।

  5. লাইন কাটার পর পঞ্চম এবং চূড়ান্ত বার্তা।

দ্রুত পরিষেবা ও কড়া হুঁশিয়ারি

বিদ্যুৎমন্ত্রী ডিসকম কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, গ্রীষ্মের দাবদাহে বিদ্যুৎ সরবরাহ যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে। টাকা রিচার্জ করার সাথে সাথেই যাতে সংযোগ ফিরে আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। রিচার্জের পর সংযোগ দিতে দেরি হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তরপ্রদেশের লক্ষ লক্ষ বিদ্যুৎ গ্রাহক যেমন আর্থিক ও মানসিক স্বস্তি পেলেন, তেমনই রাজ্য সরকারের প্রতি জনরোষও অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।