মহিলা কলেজে জোর করে ঢুকল ABVP! ছিঁড়ে ফেলা হলো গেট? উত্তাল দিল্লি, এলজি-র দরবারে আপ!

রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের নিরাপত্তা কি তলানিতে? গার্গী মহিলা কলেজে এবিভিপি (ABVP) কর্মীদের কথিত জোরপূর্বক প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর (LG) তারানজিৎ সিং সান্ধুকে কড়া চিঠি পাঠিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি তুললেন আম আদমি পার্টির দিল্লি রাজ্য সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ।

ঠিক কী ঘটেছিল গার্গী কলেজে?

অভিযোগ উঠেছে, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬-এ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত গার্গী কলেজে ডিইউএসইউ (DUSU) সভাপতি আরিয়ান মানের নেতৃত্বে এবিভিপি-র একদল যুবক কোনও অনুমতি ছাড়াই ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, তারা কলেজের প্রধান গেট ভেঙে ফেলে ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই আকস্মিক অনুপ্রবেশে ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়। যদিও কলেজের ছাত্রীরা সাহসিকতার সাথে তাদের প্রতিহত করেন।

সৌরভ ভরদ্বাজের বিস্ফোরক অভিযোগ

এলজি-কে লেখা চিঠিতে সৌরভ ভরদ্বাজ দুটি গুরুতর বিষয়ে আলোকপাত করেছেন:

  • পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা: ভরদ্বাজের দাবি, ঘটনাস্থলে দিল্লি পুলিশের কর্মীরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন অনুপ্রবেশকারীদের আটকানো হলো না?

  • এফআইআর-এ বিলম্ব: ঘটনার দুই দিন পার হয়ে গেলেও কেন এখনও পর্যন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

“একটি মহিলা কলেজে পুরুষদের এই ধরণের অনধিকার প্রবেশ কেবল অগ্রহণযোগ্য নয়, এটি আইনশৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন। পুলিশের ভূমিকা আজ প্রশ্নের মুখে।” — সৌরভ ভরদ্বাজ

দ্রুত সাক্ষাতের আবেদন

ভবিষ্যতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ তুলে ধরতে সৌরভ ভরদ্বাজ এলজি-র সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে দিল্লি পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়ে আরিয়ান মান-সহ জড়িত সকল এবিভিপি কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আবহে এই ঘটনা দিল্লির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এখন দেখার, রাজভবন এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার ওপর কোনও হস্তক্ষেপ করে কি না।