মহিলা বিলের মোড়কে কি ওবিসিদের অধিকার কাড়ছে বিজেপি? বিস্ফোরক প্রিয়াঙ্কা, হারল মোদী সরকার

মোদী সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ডিলিমিটেশন বিল লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়তেই ময়দানে নামলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এই পরাজয়কে কেবল সংখ্যার লড়াই নয়, বরং ‘গণতন্ত্র ও সংবিধানের জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। প্রিয়াঙ্কার সাফ কথা, মহিলা সংরক্ষণের নাম করে বিজেপি আসলে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চেয়েছিল, যা বিরোধীরা একজোট হয়ে রুখে দিয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার বিস্ফোরক অভিযোগ: বিলটি ভোটাভুটিতে পরাজিত হওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন:
-
ওবিসিদের বঞ্চনা: প্রিয়াঙ্কার দাবি, এই বিলের আড়ালে কেন্দ্র অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর (OBC) অধিকার কেড়ে নেওয়ার ছক কষেছিল।
-
ভণ্ডামি: প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির ভাষণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাস্তবে এই আইনের সঙ্গে নারীদের অধিকারের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল।
রাহুল গান্ধীর ‘সংবিধান বাঁচাও’ বার্তা: প্রিয়াঙ্কার সুরেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “এটি নারী সংরক্ষণ বিল ছিল না, ছিল ভারতের রাজনৈতিক কাঠামো বদলে দেওয়ার একটি অসাংবিধানিক প্রচেষ্টা।” এক্স (X) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “সংবিধান ভাঙার জন্য ওরা নারীর নামে একটি কৌশল ব্যবহার করেছিল। ভারত তা দেখেছে এবং ভারতই তা থামিয়ে দিয়েছে। জয় সংবিধান!”
যেভাবে পর্যুদস্ত হলো কেন্দ্র: এদিন ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশের জন্য ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল (ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া ৫২৮ জন সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশ)। কিন্তু ফলাফল আসতেই দেখা যায়:
-
বিলের পক্ষে: ২৯৮টি ভোট
-
বিলের বিপক্ষে: ২৩০টি ভোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার পরিকল্পনা বড়সড় ধাক্কা খেল।
কোণঠাসা মোদী-শাহ: প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারংবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বরফ গলেনি। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নারী সংরক্ষণের নাম করে নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার কোনও চেষ্টাই তারা সফল হতে দেবে না। ১১ বছরের মোদী শাসনে সংসদে সরকারের এই হারের পর জাতীয় রাজনীতিতে প্রিয়াঙ্কা-রাহুলদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।