‘আজ ঐতিহাসিক দিন…’ লোকসভায় মোদী সরকারকে হারিয়ে গর্জে উঠলেন মহুয়া মৈত্র!

দিল্লিতে বসন্তের হাওয়ায় এখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে বিরোধী শিবির। লোকসভায় মোদী সরকারের ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ) পরাস্ত হতেই উল্লাসে ফেটে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এই পরাজয়কে ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। কৃষ্ণনগরের সাংসদের সাফ কথা, নারী সংরক্ষণের নাম করে সরকার আসলে এক ‘অশুভ’ পরিকল্পনা চরিতার্থ করতে চেয়েছিল।
কেন এই বিলকে ‘অবৈধ্য’ বললেন মহুয়া? বিলটি খারিজ হওয়ার পরপরই সমাজমাধ্যমে সরব হন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি:
-
পুরনো চাল: মহিলা সংরক্ষণ বিল তো ২০২৩ সালেই পাশ হয়ে গিয়েছে। সরকার চাইলে বর্তমান ৫৪৩টি আসনের মধ্যেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করতে পারত।
-
আসল উদ্দেশ্য: নারী সংরক্ষণের আড়ালে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার যে চেষ্টা ছিল, তা আসলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত।
-
বৈষম্যের ভয়: মহুয়ার মতে, এই বিল পাশ হলে দক্ষিণ, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি সংসদের প্রতিনিধিত্বে গুরুত্ব হারাত।
সংখ্যার লড়াইয়ে পর্যুদস্ত কেন্দ্র: এদিন ভোটাভুটিতে দেখা যায়, বিলের পক্ষে পড়েছে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে ২৩০টি। সংবিধান সংশোধনী পাশের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে ২৮টি ভোটের ব্যবধানে ব্যর্থ হয় মোদী সরকার। মহুয়া মৈত্র এই জয়কে ‘ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদের’ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ডেরেক ও’ব্রায়েনের বিস্ফোরক পোস্ট: মহুয়ার সুরেই আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি এক্স (X) হ্যান্ডেলে সরাসরি নাম করে লেখেন, “নরেন্দ্র এবং অমিতের শেষের শুরু এটাই!” তৃণমূল নেতৃত্বের এই প্রতিক্রিয়া বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৯-এর লক্ষ্যে সংসদীয় লড়াইয়ে এক বড় মানসিক সুবিধা পেয়ে গেল ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
বিফলে গেল মোদী-শাহের আশ্বাস: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল জানিয়েছিলেন, বিল পাশের সব কৃতিত্ব তিনি বিরোধীদের দেবেন। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ সব রাজ্যে ৫০ শতাংশ হারে আসন বৃদ্ধির লিখিত প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো বিজেপিকে। ১১ বছরের শাসনামলে এই প্রথম কোনও সাংবিধানিক বিল ভোটাভুটিতে হেরে প্রত্যাহার করতে হলো কেন্দ্রকে।