বিরোধী ঐক্যে কুপোকাত কেন্দ্র! জয়ের ক্রেডিট দিতেই অভিষেককে ফোন রাহুল গান্ধীর, বাড়ছে নতুন রসায়ন

লোকসভায় ডিলিমিটেশন বিল বা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল আটকে যাওয়ার পরই শুরু হলো জাতীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ। জয়ের আবহেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মোদী সরকারের মেগা পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে তৃণমূলের ভূমিকার জন্য অভিষেককে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ফোনে ধন্যবাদ ও জোটের বার্তা: শুক্রবার লোকসভায় ভোটাভুটির ফলাফল আসতেই দেখা যায়, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে সরকার পক্ষ। এরপরই আর দেরি করেননি রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে তিনি বলেন, বিরোধী ঐক্যের ফলেই সরকারের এই ‘অসাংবিধানিক’ ছক রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তৃণমূলের সাংসদরা যেভাবে একজোট হয়ে বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাহুল।

কেন এই ফোন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?

  • ইন্ডিয়া জোটের শক্তি: আসন পুনর্বিন্যাস এবং লোকসভার আসন ৮৫০ করার যে পরিকল্পনা কেন্দ্র নিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে তৃণমূল ও কংগ্রেসের এই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই জোটের শক্তিকে আরও মজবুত করল।

  • ম্যাজিক ফিগারে বাধা: বিল পাশের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫২টি ভোট, কিন্তু বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কারণে সরকার আটকে গেল ২৯৮-এ। এই ২৩০ জন বিরোধী সাংসদের মধ্যে তৃণমূলের ভোট ছিল অত্যন্ত নির্ণায়ক।

ধাক্কা খেল কেন্দ্রের পরিকল্পনা: এদিন ৫২৮ জন সাংসদ ভোটদান করেন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আপাতত স্থগিত হয়ে গেল লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া। বিরোধীদের দাবি, এটি নারী সংরক্ষণের আড়ালে নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা ছিল। অভিষেক ও রাহুলের এই কথোপকথন বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৯-এর লক্ষ্যে আগামী দিনে জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী লড়াই আরও তীক্ষ্ণ হতে চলেছে।

সংসদের এই ‘পরাজয়’ মোদী সরকারের জন্য যেমন বড় ধাক্কা, তেমনই রাহুল-অভিষেকের এই ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ কল জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিল।

Samrat Das
  • Samrat Das