আইপ্যাকের ‘ভুয়ো প্রেস কার্ড’ কেলেঙ্কারি? তৃণমূল কর্মীদের সাংবাদিক সাজানোর বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর!

কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাক (I-PAC) ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠল এই ভোটকুশলী সংস্থার বিরুদ্ধে। এবার অভিযোগ আরও গুরুতর— ‘ভুয়ো প্রেস আইডি’ (Fake Press ID) তৈরি করে তৃণমূল কর্মীদের সাংবাদিক সাজিয়ে বুথে ঢোকানোর ছক কষছে আইপ্যাক। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক দাবিতে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

‘কাকের গায়ে ময়ূর পুচ্ছ’ লাগানোর কৌশল?
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, আইপ্যাক অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কয়েক হাজার ভুয়ো প্রেস কার্ড তৈরি করেছে। এই কার্ডগুলি বিতরণ করা হচ্ছে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে। যারা আদতে সাংবাদিক নন, অথচ ‘প্রেস’ লেখা কার্ড গলায় ঝুলিয়ে তারা অনায়াসেই ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা স্পর্শকাতর প্রশাসনিক এলাকায় ঢুকে পড়তে পারছেন। শুভেন্দুর ভাষায়, এটি আসলে “কাকের গায়ে ময়ূর পুচ্ছ লাগিয়ে ময়ূর সাজানোর” অপচেষ্টা।

ভোট প্রক্রিয়ায় বড়সড় হুমকির আশঙ্কা
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাংবাদিকদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে:

ভোটারদের ভয় দেখানো: সাংবাদিক পরিচয়ে বুথের ভেতর ঢুকে সাধারণ ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

নজরদারি এড়ানো: প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বুথের ভেতরে অনৈতিক কাজ বা ছাপ্পা ভোটের পরিবেশ তৈরি করা।

প্রশাসনিক সুবিধা: সাংবাদিকদের জন্য অবারিত দ্বার হওয়ার সুযোগ নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ।

নির্বাচন কমিশনে কড়া নালিশ
এই পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে নেই বিরোধী শিবির। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে গত কয়েক মাসে রাজ্যে ইস্যু হওয়া সমস্ত নতুন প্রেস কার্ড এবং অ্যাক্রেডিটেশন লেটার খতিয়ে দেখা হয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নতুন কোনো ‘সাংবাদিক’ দেখলে যেন তাদের নথিপত্র কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মত
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের অপব্যবহার রুখতে শুধুমাত্র স্বীকৃত এবং প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরই বুথের আশেপাশে অনুমতি দেওয়া উচিত। আইপ্যাকের এই কথিত ‘ফেক আইডি’ কৌশল যদি সত্য হয়, তবে তা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কয়লা দুর্নীতিতে আইপ্যাক কর্তার গ্রেফতারির পর এই নতুন অভিযোগ সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। এখন দেখার, কমিশন এই ‘ছদ্ম সাংবাদিকদের’ রুখতে কী পদক্ষেপ নেয়।