নদীয়ায় ভোটার তালিকায় ডিজিটাল সার্জারি! ৪.৬ লক্ষ নাম উধাও, টার্গেট কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার?

বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজার আগেই নদীয়া জেলায় শুরু হয়ে গেল মহাপ্রলয়। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে এক ধাক্কায় বাদ পড়ল ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের নাম। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাদ পড়া এই বিপুল সংখ্যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় আড়াই লক্ষই মহিলা ভোটার। এক দশক আগের ভোটার সংখ্যার সমান স্তরে জেলা ফিরে যাওয়ায় দানা বাঁধছে গভীর রহস্য।
পরিসংখ্যানের আড়ালে শিউরে ওঠা তথ্য
প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নদীয়া জেলায় বর্তমানে ভোটার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮৮২-এ।
মহিলা ভোটার বাদ: ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৭৭ জন।
পুরুষ ভোটার বাদ: ২ লক্ষ ১৪ হাজার জন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৪ সালে দাঁড়িয়ে জেলার ভোটার সংখ্যা কার্যত ২০১৬ সালের অবস্থায় ফিরে গিয়েছে। এক দশকে জনসংখ্যা বাড়লেও ভোটার তালিকায় এই ‘বিপরীত রথ’ দেখে হতবাক রাজনৈতিক মহল।
‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও চক্রান্তের অভিযোগ
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এই গণ-বাতিল কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এক গভীর ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’। শাসক শিবিরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধাভোগী মহিলাদেরই সুকৌশলে টার্গেট করা হচ্ছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ:
“রানাঘাট দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ এবং নাকাশিপাড়ার মতো জায়গায় হাজার হাজার মহিলার নাম উধাও করে দেওয়া হয়েছে। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পান, তারা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। সেই ভোটব্যাঙ্ক নষ্ট করতেই কি এই পরিকল্পনা?”
কেন এই গণ-বাতিল? কী বলছে প্রযুক্তি?
জানা গিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই এই বাদ পড়ার পালা শুরু হয়। ‘আনম্যাপড’ (Unmapped) এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy)-র মতো কারিগরি শব্দের দোহাই দিয়ে শুরু হয়েছে নাম কাটা।
বিপাকে মহিলারা: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন বা বাপের বাড়ির নথির সঙ্গে বর্তমান তথ্যের সামান্য গরমিল থাকলেই নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও হাজার হাজার মহিলা ভোটার এখন পরিচয় সংকটে ভুগছেন।
ভোটের ময়দানে প্রভাব
ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সাপ্লিমেন্টারি লিস্টেও নতুন করে নাম কাটা যাওয়ায় উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। নদীয়ার এই ৪.৬ লক্ষ ভোটারের অনুপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে আমূল বদল এনে দিতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিপুল সংখ্যক মানুষ কি শেষ পর্যন্ত ভোটাধিকার ফিরে পাবেন, নাকি এক বিশাল অংশ ছাড়াই সম্পন্ন হবে নদীয়ার বিধানসভা লড়াই?