“বিজেপি এলে মাছ-মাংস বন্ধ হবে?” বাংলায় দাঁড়িয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার!

বাংলার ভোট ময়দানে ‘খাদ্যাভ্যাস’ নিয়ে লড়াই দীর্ঘদিনের। “বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে মাছ-মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হয়ে যাবে”— তৃণমূলের এই দীর্ঘদিনের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে এবার আসরে নামলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি-র দাপুটে নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বৃহস্পতিবার রাজ্যে বিজেপি প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে এসে সরাসরি এই ইস্যুতে তৃণমূলকে তুলোধোনা করলেন তিনি।

মাংস নিষিদ্ধ নিয়ে বড় বয়ান
গত কয়েকদিন ধরেই শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছিল যে, গেরুয়া শিবির ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা হবে। এদিন সেই বিতর্কের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার খবরটি পুরোপুরি ঠিক নয়, তবে এর মধ্যে একটি বড় ‘টুইস্ট’ আছে।

তিনি সপাটে বলেন:

“রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাংস খাওয়া নিশ্চিতভাবে নিষিদ্ধ হবে, তবে সেটা মাছ বা পাঁঠার মাংস নয়— নিষিদ্ধ হবে শুধুমাত্র গরুর মাংস।”

মাছ খাওয়া নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট
এদিন হিমন্ত স্পষ্ট করে দেন যে, মাছ বা অন্যান্য সাধারণ আমিষ খাবারের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরিকল্পনা দলের নেই। তৃণমূল সাধারণ মানুষের মনে অযথা ভয় তৈরি করছে বলে তিনি দাবি করেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণের চর্চা শুরু হয়েছে।

তৃণমূল বনাম বিজেপি: খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সংঘাত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার মানুষের কাছে মাছ-ভাত আবেগ। সেই আবেগকে হাতিয়ার করেই বিজেপি-বিরোধী প্রচার শানাচ্ছিল তৃণমূল। কিন্তু হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কৌশলে ‘গো-মাংস’ নিষিদ্ধ করার কথা বলে একদিকে যেমন হিন্দুত্বের তাস খেললেন, তেমনই মাছ বা অন্য মাংস নিয়ে আমজনতার ভয় কাটানোর চেষ্টাও করলেন।

এখন দেখার, হিমন্তর এই ‘স্পট ডেড’ জবাবের পাল্টা তৃণমূল শিবির থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে। বাংলার ভোট রাজনীতিতে এখন ‘খাদ্য-বিতর্ক’ যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।