মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে গণতন্ত্র হাইজ্যাকের চেষ্টা? ১৩১তম সংশোধনী বিল নিয়ে মোদী সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি কংগ্রেসের

মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে এবার কেন্দ্র ও বিরোধী শিবিরের লড়াই এক নতুন মোড় নিল। শুক্রবার সরব হলেন কংগ্রেসের প্রভাবশালী সাংসদ কেসি বেণুগোপাল। মোদী সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। কংগ্রেসের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণের নামে আসলে গণতন্ত্রকে ‘হাইজ্যাক’ করতে চাইছে বিজেপি।

“৮৫০ আসন করার ক্ষমতা নেই আপনাদের”
সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেণুগোপাল চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি জানান, সংবিধান সংশোধন করতে গেলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৩৬২ আসন) প্রয়োজন, যা এনডিএ সরকারের (২৯২ আসন) হাতে নেই।
বেণুগোপাল বলেন:

“সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকুক এবং এই বিতর্কিত বিল প্রত্যাহার করুক।”

“বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণে আমরা পূর্ণ সমর্থন দিতে রাজি।”

“আসন সংখ্যা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আপনারা সদিচ্ছা দেখালে ২০২৭ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই ডিলিমিটেশন করে সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব।”

নাটক না কি সততা?
২০২৩ সালে পাশ হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ গত রাতে কেন নোটিফাই করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। বেণুগোপালের কটাক্ষ, “প্রধানমন্ত্রীর নাটক আমরা অনেক দেখেছি। যদি সদিচ্ছা থাকত, তবে ২০২৩ সালের আইনটি নোটিফাই করতে এত দেরি হলো কেন?” তাঁর দাবি, মহিলা সংরক্ষণ বিলটি কেন্দ্র নিজেই ঝুলিয়ে রেখেছে এবং এখন ডিলিমিটেশনের ভয় দেখিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।

দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার অভিযোগ
কংগ্রেস সাংসদ হিবি ইডেন আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তাঁর মতে, লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার আড়ালে একটি ‘গোপন এজেন্ডা’ রয়েছে। তিনি বলেন:

“যে রাজ্যগুলো (বিশেষত দক্ষিণের রাজ্য) ১৯৭৬ সালের পর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ভালো কাজ করেছে, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসলে তাদেরই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নির্লজ্জ আক্রমণ।”

এখন কী হবে?
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বিজেপি কি পিছু হটবে? নাকি আসন সংখ্যা বাড়িয়ে উত্তর ভারতের প্রভাব বাড়ানোর কৌশলে অনড় থাকবে? কংগ্রেসের এই কড়া অবস্থানের পর দিল্লির রাজনীতি এখন সরগরম। সরকার যদি বিলটি প্রত্যাহার করে, তবে বর্তমান আসন কাঠামোতেই ২০২৭-এর ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ এগিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে—যা এখন বিরোধীদের মূল দাবি।