আমেরিকাকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ফেরত দিচ্ছে ইরান! ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবিতে তোলপাড় বিশ্ব

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে এবার এক অভাবনীয় মোড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” আমেরিকাকে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। শুধু তাই নয়, তেহরান যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে আর হাঁটবে না, সেই বিষয়েও বড়সড় আশ্বাস মিলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বি-২ বোমারু বিমানের দাপটেই কি সমঝোতা?
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিককালে আমেরিকার বি-২ বোমারু বিমান (B-2 Bomber) দিয়ে চালানো অভিযানের পরেই পরিস্থিতি বদলেছে। মাটির অনেক গভীরে থাকা তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা বা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ওয়াশিংটনকে হস্তান্তরে রাজি হয়েছে ইরান। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইরানের সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয়ে ইতিবাচক বোঝাপড়া হয়েছে।”

পরমাণু মুক্ত ইরানই লক্ষ্য
ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখা। তিনি বলেন:

“ইরানের কাছে কোনো পরমাণু অস্ত্র নেই এবং থাকা চলবেও না।”

“তেহরান খুব জোরালোভাবেই এই শর্তে রাজি হয়েছে।”

“ইরান এখন একটি চুক্তি করতে মরিয়া। যে সব শর্তে তারা দু’মাস আগেও রাজি ছিল না, এখন তারা সেগুলো হাসিমুখে মেনে নিচ্ছে।”

যুদ্ধবিরতি ও ঐতিহাসিক বৈঠকের ইঙ্গিত
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। ট্রাম্পের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই সপ্তাহান্তেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ফের মুখোমুখি বৈঠক হতে পারে। আলোচনার গতিপ্রকৃতি এতটাই ইতিবাচক যে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আলাদা করে বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করছেন তিনি।

বাজার ও তেলের দামে প্রভাব
ট্রাম্পের এই দাবির প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের সঙ্গে এই সম্ভাব্য চুক্তির খবরের জেরে:

শেয়ার বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তানে দু’দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বন্দরে অবরোধের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সেই কূটনৈতিক চাপ কাজ করেছে। এখন গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই সপ্তাহান্তের দিকে— সত্যিই কি ইরান চিরতরে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের চুক্তিতে সই করবে?