সুবর্ণরেখার বুকে ২০০ কেজির দানবীয় মিসাইল! মাছ ধরতে গিয়ে চক্ষুচড়কগাছ মৎস্যজীবীদের, এলাকায় হুলস্থুল

শান্ত নদীর বুকে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন মৎস্যজীবীরা, কিন্তু জালে যা ধরা পড়ল তা দেখে আতঙ্কে প্রাণ শুকিয়ে যাওয়ার জোগাড়! ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার বাহারাগোড়া থানার অন্তর্গত সুবর্ণরেখা নদীর মাঝখানে উদ্ধার হলো প্রায় ২০০ কেজি ওজনের একটি বিশালাকার মিসাইল সদৃশ বোমা। বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ড ও বাংলা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কীভাবে মিলল এই বিস্ফোরক? বৃহস্পতিবার সকালে পানিপোদা গ্রামের কয়েকজন মৎস্যজীবী সুবর্ণরেখা নদীতে মাছ ধরছিলেন। আচমকাই তাঁদের নজরে আসে একটি বিশালাকার ধাতব বস্তু। কৌতূহলবশত কাছে যেতেই তাঁদের পিলে চমকে যায়। বস্তুটির গঠন হুবহু মিসাইলের মতো। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর দেওয়া হয় বাহারাগোড়া থানায়।

পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা: পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। সম্ভাব্য বিস্ফোরণ এড়াতে তৎক্ষণাৎ নদী সংলগ্ন এলাকা খালি করে দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে পুলিশ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বস্তুটির ওজন প্রায় ২০০ কেজিরও বেশি। ইতিমধ্যেই খবর দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর বম্ব স্কোয়াডকে।

কেন বারবার মিলছে মিসাইল? সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি তৃতীয় ঘটনা। এর আগেও সুবর্ণরেখা নদীর অববাহিকা থেকে একই রকম দুটি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল। প্রতিবারই সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা এসে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করেন। বারবার কেন এই এলাকায় মিসাইল মিলছে, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য।

  • এটি কি সেনাবাহিনীর কোনো পুরনো অনুশীলনের অংশ যা নদীর তলায় চাপা পড়েছিল?

  • নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বড় ষড়যন্ত্র?

আতঙ্কে গ্রামবাসীরা: বারবার এমন ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা এখন নদীতে নামতেও ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, নদীগর্ভে আরও এমন প্রাণঘাতী বস্তু লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই গোটা নদীপথ জুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা এসে পরীক্ষা করার পরই জানা যাবে এটি কতটা শক্তিশালী এবং ঠিক কীভাবে সুবর্ণরেখার চরে এল।