বিজেপি এলে কি মাছ-মাংস বন্ধ? স্মৃতি ইরানির এক উত্তরেই তোলপাড় বাংলা! ইলিশ নিয়ে একি বললেন?

লোকসভা নির্বাচনের পারদ তুঙ্গে উঠতেই এবার নতুন বিতর্ক— বিজেপি ক্ষমতায় এলে কি বাঙালির পাত থেকে উধাও হয়ে যাবে মাছ-মাংস? বিরোধীদের এই লাগাতার অভিযোগের জবাব দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। কলকাতার বুকেই এই বিতর্কের এমন এক ‘মোক্ষম’ জবাব দিলেন তিনি, যা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে হাসির রোল আর চর্চা দুই-ই তুঙ্গে।
স্মৃতির ‘ইলিশ’ অস্ত্র!
কলকাতায় বিজেপির বিশেষ প্রচার কর্মসূচি ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ডের উদ্বোধনে এসেছিলেন স্মৃতি ইরানি। সেখানেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে, বিরোধীরা প্রচার করছে বিজেপি এলে নাকি আমিষ খাবার বন্ধ হয়ে যাবে। স্মৃতির চিরপরিচিত মেজাজে উত্তর দেন:
“মমতাদিদি কি ভাবছেন আমরা এলে ওনার পাতে ভাগ বসাব? মাছ-মাংস নিয়ে যারা মিথ্যে ভয় দেখাচ্ছেন, তারা বাঙালির রুচি সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান রাখেন না। পদ্মফুলের সরকার এলে বাঙালির পাতে ইলিশের স্বাদ আরও বাড়বে, কমবে না!”
বিরোধীদের তোপ ও স্মৃতির পালটা
তৃণমূল ও বিরোধীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছিল যে, উত্তর ভারতের মতো বিজেপি বাংলাতেও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি করতে পারে। স্মৃতি ইরানি এদিন সেই অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিয়ে বলেন:
-
বিজেপি কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসের বিরোধী নয়।
-
বাংলায় বাঙালির আবেগ— অর্থাৎ মাছ আর ভাতের সংস্কৃতির কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না।
-
উল্টে বিজেপি এলে বাজার দর নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যাতে মধ্যবিত্ত বাঙালি নিশ্চিন্তে বাজার করতে পারে।
‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ডে নতুন চমক
শুধু মাছ-মাংসের জবাবই নয়, এদিন স্মৃতি ইরানি বাংলার মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ডের সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই কার্ডের মাধ্যমে বাংলার মহিলাদের সুরক্ষা এবং আর্থিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত হবে।
প্রচারের ফাঁকে স্মৃতি ইরানির এই হাস্যরসিক অথচ তীক্ষ্ণ মন্তব্যটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ঘুরছে। ইলিশ মাছ নিয়ে তাঁর এই ‘সার্টিফিকেট’ কি বাংলার খাদ্যপ্রেমী ভোটারদের মন জয়ে সক্ষম হবে? সেটাই এখন দেখার।