বাস স্ট্যান্ডে কন্ডাক্টরকে চটিপেটা দুই মহিলার! “সংসার ভাঙার” অভিযোগে হিমাচলে তুলকালাম

হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর জেলার ঘুমারভি বাস স্ট্যান্ডে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ভরদুপুরে এক মাঝবয়সী বাস কন্ডাক্টরকে ঘিরে ধরে জুতো ও চটি দিয়ে বেধড়ক মারধর করলেন দুই মহিলা। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই তা ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, কন্ডাক্টর হাতজোড় করে নিজের অপরাধ জানতে চাইছেন, কিন্তু দুই মহিলার রাগের সামনে তাঁর সমস্ত আবেদন বিফলে যাচ্ছে।

ননদ-বউদির আক্রমণ: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই মহিলা সম্পর্কে ননদ এবং বউদি। ভুক্তভোগী কন্ডাক্টর যোগিন্দ্রর অভিযোগ, তিনি যখন বাস স্ট্যান্ডে ছিলেন, তখন ওই দুই মহিলা আচমকা তাঁকে আটকান এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। মারধরের চোটে তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে যায় এবং গলার সোনার চেনও হারিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন তিনি।

ঝামেলার কারণ কী? কেন এমন রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন ওই মহিলারা? জানা যাচ্ছে, মারধরকারী এক মহিলার স্বামীও একজন বাস কন্ডাক্টর। ওই মহিলার অভিযোগ, যোগিন্দ্র তাঁর স্বামীর কাছে তাঁর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। যোগিন্দ্র নাকি তাঁর স্বামীকে বলেছেন যে তাঁর স্ত্রী ‘হোটেল যান’। এই মন্তব্যের কারণেই মহিলার সংসারে অশান্তি শুরু হয়েছে এবং সেই রাগ মেটাতেই তাঁরা চড়াও হন কন্ডাক্টরের ওপর।

“আমার সন্তানদের দিব্যি…” ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কন্ডাক্টর বারবার বলছেন, “আমার দোষটা কোথায়?” তিনি উপস্থিত জনতার সামনে নিজের সন্তানদের দিব্যি খেয়ে দাবি করেন যে তিনি এমন কোনও মন্তব্য করেননি। যদিও উত্তেজিত মহিলারা তাঁর কোনও কথাই শুনতে রাজি ছিলেন না। অবাক করার মতো বিষয় হলো, যখন প্রকাশ্য রাস্তায় এই মারধর চলছিল, তখন উপস্থিত পথচারীদের অনেকেই নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

পুলিশি ব্যবস্থা: ইতিমধ্যেই কন্ডাক্টর যোগিন্দ্রর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই দুই মহিলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হিমাচলের এই ঘটনাটি বর্তমানে নেটপাড়ায় নারী বনাম পুরুষ অধিকারের এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।