পবন খেরার জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তুমুল লড়াই! আধার কার্ডে জালিয়াতির অভিযোগ আসাম সরকারের, চরম অস্বস্তিতে কংগ্রেস নেতা?

কংগ্রেস নেতা পবন খেরার আগাম জামিন ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল আইনি আঙিনা। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পরিবারের দায়ের করা মানহানি ও জালিয়াতির মামলায় খেরাকে দেওয়া জামিনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে আসাম সরকার। বুধবার বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর শুনানি সম্পন্ন হয়।
আধার কার্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ
আসাম সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয় যে, পবন খেরা তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার জন্য তথ্যের কারচুপি করেছেন। সরকারি আইনজীবীর দাবি:
পবন খেরা তাঁর আবেদনে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের এখতিয়ার ব্যবহারের জন্য একটি আধার কার্ড জমা দিয়েছিলেন।
ওই কার্ডের নথিতে খেরার নাম ও ঠিকানার ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে অভিযোগ।
আসাম সরকারের দাবি, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করে খেরা ট্রানজিট জামিন হাসিল করেছেন।
সরকার পক্ষ দাবি তুলেছে যে, এই জামিনের আদেশ অবিলম্বে স্থগিত করা হোক এবং খেরাকে আসামের সংশ্লিষ্ট আদালতেই আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হোক।
বিবাদের সূত্রপাত কোথায়?
পুরো ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ই এপ্রিল একটি সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। সেখানে পবন খেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীর একাধিক পাসপোর্ট এবং বিদেশে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে, যা নির্বাচনী হলফনামায় গোপন করা হয়েছে।
শর্মা দম্পতি এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দেন। এরপরই গুয়াহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে খেরার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৭৫ (নির্বাচনে মিথ্যা বিবৃতি), ৩৫ এবং ৩১৮ (প্রতারণা) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট বনাম আসাম সরকার
গ্রেফতারি এড়াতে খেরা হায়দ্রাবাদে তাঁর আবাসিক ঠিকানা দেখিয়ে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে এক সপ্তাহের ট্রানজিট জামিন পান। আদালত তাঁকে গুয়াহাটি হাইকোর্টে নিয়মিত জামিনের আবেদনের সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু আসাম সরকারের প্রশ্ন— অপরাধ গুয়াহাটিতে হওয়া সত্ত্বেও কেন খেরা আসামের আদালতে না গিয়ে হায়দ্রাবাদে আবেদন করলেন? কেনই বা সেখানে নথিপত্র নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা গেল?
সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে এই মামলার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। পরবর্তী শুনানিতেই নির্ধারিত হবে পবন খেরার জামিন বহাল থাকবে নাকি তাঁকে আসাম পুলিশের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।