“ইসলামাবাদেই থাকুন, বড় খবর আসছে”, মার্কিন সাংবাদিককে কেন এমন নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প? ইরান চুক্তিতে নয়া মোড়!

বিশ্ব রাজনীতিতে ফের বড়সড় ধামাকা দিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান কি তবে পাকিস্তানের মাটিতেই হতে চলেছে? খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি ফোন কল ঘিরে এখন উত্তাল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

ট্রাম্পের সেই রহস্যময় ফোন কল
সবকিছুর সূত্রপাত নিউইয়র্ক পোস্টের নামী সাংবাদিক কেইটলিন ডর্নবোসকে করা ট্রাম্পের একটি ব্যক্তিগত ফোন কল থেকে। কেইটলিন গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফার আলোচনার খবর সংগ্রহ করতে ইসলামাবাদে ছিলেন। কাজ শেষে যখন তিনি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই সরাসরি ফোন আসে হোয়াইট হাউস থেকে।

বিবিসি উর্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেইটলিন বলেন:

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে ফোন করে স্পষ্ট নির্দেশ দেন— ‘ইসলামাবাদেই থাকুন। বৈঠকটি সেখানেই হতে পারে, কারণ আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।’”

প্রেসিডেন্টের এই গ্রিন সিগন্যালের পর এটা প্রায় নিশ্চিত যে, আগামী ১৮ বা ১৯ এপ্রিল ইসলামাবাদেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ঐতিহাসিক দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

কেন বেছে নেওয়া হলো ইসলামাবাদকে?
আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ দেশের বদলে পাকিস্তানকে কেন বেছে নেওয়া হলো? এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো দেশে গিয়ে লাভ নেই। ইরান ও পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

পাশাপাশি, ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের মতে, মুনিরের অধীনে পাকিস্তান আমেরিকার জন্য নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য সহযোগী।

ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য কী?
ইরানের সঙ্গে এই চুক্তির মূল ভিত্তি কী হতে চলেছে, তা নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি বলেন:

“আমি শুধু চাই ইরানের হাতে যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। পুরো চুক্তিটি এই একটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই। এর বাইরে বাকি সব কথা কেবলই বাগাড়ম্বর।”

কে এই কেইটলিন ডর্নবোস?
যাঁর রিপোর্টিংয়ে পুরো বিশ্ব এই চাঞ্চল্যকর খবর জানতে পারল, সেই কেইটলিন ডর্নবোস সাংবাদিকতা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বর্তমানে নিউ ইয়র্ক পোস্টের বৈদেশিক ও জাতীয় বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত কেইটলিন সম্মিলিতভাবে পুলিৎজার পুরস্কার জয়ী। এ বছর তিনি আমেরিকার সেরা রিপোর্টারের সম্মান ‘কলভিন অ্যাওয়ার্ড’-ও লাভ করেছেন।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে ট্রাম্পের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ সফল হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। ১৮ এপ্রিলের সেই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের সব আপডেট পেতে চোখ রাখুন ডেইলিহান্ট-এ।

Saheli Saha
  • Saheli Saha