শিক্ষা থেকে পর্যটন—মধ্যপ্রদেশের মেগা বাজেট! ৫ হর্সপাওয়ার পাম্পে ফ্রি বিদ্যুৎ, কৃষকদের জন্য দরাজ শিবরাজ সরকার

মধ্যপ্রদেশ এখন আর কেবল ভারতের ভৌগোলিক হৃদয় নয়, বরং দেশের উন্নয়নের পাওয়ার হাউস হয়ে উঠছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে শিক্ষা, কৃষি এবং পর্যটন—এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে এক নয়া অর্থনৈতিক বিপ্লবের ডাক দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশ এখন বহুমুখী উন্নয়নের এক অনন্য মডেল।

শিক্ষার জন্য ২৫ হাজার কোটির ‘মাস্টারপ্ল্যান’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করে তুলতে সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির আধুনিকীকরণ এবং প্রতিটি গ্রামে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দিতে ২৫,৪৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্কুলগুলিতে কেবল পরিকাঠামো নয়, বরং পঠনপাঠনের মানোন্নয়ন এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।

পর্যটনে বিনিয়োগের জোয়ার: খাজুরাহো থেকে কানহা
মধ্যপ্রদেশের পর্যটন শিল্প এখন বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত। সম্প্রতি ভোপালে অনুষ্ঠিত ট্র্যাভেল মার্ট ২০২৫-এ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৩,৬৬৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘোষণা করেছেন।

আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু: খাজুরাহোর স্থাপত্য, ভেড়াঘাটের মার্বেল পাথর আর পাঁচমাড়ির নিস্তব্ধতা বরাবরই পর্যটকদের টানে।

ঐতিহ্য ও বন্যপ্রাণী: উজ্জয়িনী, গোয়ালিয়র ও ইন্দোরের ঐতিহ্যের পাশাপাশি কানহা ও বান্ধবগড়ের বাঘেদের উপস্থিতি মধ্যপ্রদেশকে পর্যটন মানচিত্রে শীর্ষে তুলে এনেছে।

কৃষি: অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি (৪৭% অবদান)
রাজ্যের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। গম, সয়াবিন ও ডাল উৎপাদনে মধ্যপ্রদেশের খ্যাতি দেশজুড়ে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে সরকার নিয়েছে ঐতিহাসিক কিছু পদক্ষেপ:

বাজেট বরাদ্দ: কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য ১৯,২০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিনামূল্যে বিদ্যুৎ: ৫ হর্সপাওয়ার পর্যন্ত কৃষি পাম্পে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিতে ৫,২৯৯ কোটি টাকা খরচ করছে সরকার।

সেচ ও রপ্তানি: উন্নত সেচ ব্যবস্থার পাশাপাশি কৃষি পণ্য ও সুতির সুতা রপ্তানিতেও হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করছে রাজ্য।

রপ্তানি ও প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত
মধ্যপ্রদেশ এখন আর কেবল উৎপাদনের সীমাবদ্ধ নেই। কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য রপ্তানিতে রাজ্যটি জাতীয় স্তরে নিজের অবস্থান মজবুত করছে। শিক্ষা, কৃষি এবং পর্যটনের এই সুষম মেলবন্ধন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে জাতীয় অর্থনীতিতে মধ্যপ্রদেশ এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে চলেছে।