DA নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ধামাকা! ৬৬৪৫ কোটি টাকা নিয়ে মুখ খুলল রাজ্য, বড় স্বস্তি কর্মীদের?

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) মেটানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আদালতের দেওয়া ডেডলাইন বা সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে। এই রিপোর্টে রাজ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই ৬৬৪৫ কোটি টাকার বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ, বুধবার বিচারপতি করোল এবং বিচারপতি মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তার ঠিক আগেই এই রিপোর্ট পেশ করে রাজ্য সরকার তাদের সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে চাইল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত চার সদস্যের কমিটির সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার পরেই এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সরকারি কর্মীদের প্রদান করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান এবং প্রাক্তন সরকারি কর্মীদের বকেয়া বাবদ মোট ৪৭৯৪ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পেনশনভোগী এবং ফ্যামিলি পেনশনভোগীদের জন্য ১৮৫০ কোটি টাকার বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসেব সম্পূর্ণ করে তা প্রদান করা হয়েছে।

তবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে কিছুটা যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। রাজ্য জানিয়েছে, ওই দীর্ঘ সময়ের কর্মীদের চাকরির তথ্য বা রেকর্ড ডিজিটাল ফরম্যাটে নেই। ফলে সেই তথ্যগুলো খুঁজে বের করে একটি পৃথক পোর্টাল তৈরির কাজ চলছে। পোর্টাল প্রস্তুতকারী সংস্থা জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ডাটাবেস তৈরি করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। এই কারণেই সুপ্রিম কোর্টে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনও জানিয়েছে রাজ্য।

বকেয়া টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে রিপোর্টে জানানো হয়েছে, গ্রুপ এ, বি এবং সি পর্যায়ের কর্মীদের টাকা তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা GPF-এ জমা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গ্রুপ ডি কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজকের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয় কি না এবং সময়সীমা বৃদ্ধি করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।

Saheli Saha
  • Saheli Saha