মধ্যরাতে দুর্গাপুরে রণক্ষেত্র! কোকওভেন থানায় বিজেপির তুমুল বিক্ষোভ, গেট ঠেলে ঢোকার চেষ্টা

মঙ্গলবার গভীর রাতে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা এলাকা। দলীয় কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীদের তুমুল বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল থানা চত্বর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিক্ষোভকারীরা থানার গেট ঠেলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। শেষমেশ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত: গান বাজানো নিয়ে বিবাদ
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে বাঁকুড়া মোড়ের কাছে মহানন্দা কলোনিতে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর র্যালি শেষ করে ফিরে এক অনুষ্ঠানে গান বাজাচ্ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। সেই সময় তৃণমূলের পক্ষ থেকে গান বন্ধ করতে বলা হলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
মুহূর্তের মধ্যে বচসা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিজেপির দাবি, তাদের এক মণ্ডল সম্পাদককে নৃশংসভাবে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ—বিজেপি কর্মীরা তাদের পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে এবং দুইজন কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেছে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
থানা ঘেরাও ও মধ্যরাতে উত্তেজনা
এই সংঘর্ষের তদন্তে নেমে পুলিশ মঙ্গলবার দুই পক্ষের তিনজনকে গ্রেফতার করে। আর এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পদ্ম শিবির।
বিজেপির অবস্থান: দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থীর নেতৃত্বে কর্মীরা রাতভর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি, পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের আড়াল করছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: শাসক শিবিরের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে বিজেপি এখন এসব নাটকের আশ্রয় নিয়ে এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা করছে।
হুঁশিয়ারি ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিজেপি প্রার্থীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—যদি গ্রেফতার হওয়া বিজেপি কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি না দেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের ধরা না হয়, তবে আগামীতে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবে দল। আপাতত কোকওভেন থানা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।