বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকার? মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! হরমুজ প্রণালী নিয়ে রণংদেহী মেজাজে আমেরিকা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এবার সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবরোধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কার মধ্যেই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই ফোনালাপ আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। মঙ্গলবার রাতে হওয়া এই ৪০ মিনিটের আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।
বন্ধুর ফোন ও মোদীর বার্তা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই তাঁর ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ফোনালাপের কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার বন্ধু ট্রাম্প ফোন করেছিলেন। আমরা বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি।” মোদী আরও জানান, আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর দুই নেতাই একমত হয়েছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ‘উন্মুক্ত ও সুরক্ষিত’ রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কেন এই পরিস্থিতি?
ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপড়েন দীর্ঘদিনের। সম্পতি দুই সপ্তাহের একটি সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করা হলেও শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি ফের জটিল হয়েছে। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন এবার সরাসরি হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের বন্দরগুলিতে কড়া নজরদারি ও জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ট্রাম্পের ‘ব্লকেড’ ও বিশ্ব অর্থনীতি
আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরান এবং তার আশেপাশের উপকূলীয় বন্দরগুলিতে আসা-যাওয়া করা সমস্ত জাহাজই এবার মার্কিন নিশানায় থাকবে। ট্রাম্পের সাফ কথা, এই পথে ইরান অভিমুখী কোনও জাহাজ যেতে পারবে না— তা সে বন্ধু দেশই হোক বা শত্রু। তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশ থেকে আসা জাহাজ যা কেবলমাত্র এই পথ ব্যবহার করবে, তাদের ওপর সরাসরি কোনও নিষেধাজ্ঞা আপাতত নেই।
ভারতের দুশ্চিন্তা
ভারতের জন্য এই প্রণালীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের সিংহভাগ জ্বালানি তেল এই পথেই আমদানি করা হয়। যদিও ইরান ভারতের কিছু তেলবাহী জাহাজকে ছাড় দিয়েছিল, কিন্তু মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া অবরোধ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
ফোনালাপ শেষে দুই নেতাই তাঁদের ‘কম্প্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও মজবুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু হরমুজের এই ‘যুদ্ধকালীন’ আবহে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা কতটা বজায় থাকে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল।