ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! প্রতিদিন ৪০০০ কোটি হারাবে ইরান? ধ্বংসের মুখে তেহরানের অর্থনীতি।

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে এবার চরম পথ বেছে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী বরাবর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধের ফলে তেহরান প্রতিদিন প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার বা ৪,০৮১ কোটি টাকা সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। ট্রাম্পের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে অপরিশোধিত তেল, খাদ্য এবং সারের বিশ্বজনীন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতির পারদ আরও চড়িয়ে দিতে পারে।
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন আধিকারিক মিয়াদ মালেকি জানিয়েছেন, এই বিশাল ক্ষতির সিংহভাগই আসবে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি বন্ধ হওয়ার কারণে। হিসেব বলছে, প্রতিদিন প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করা ইরানের জন্য এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, যার বাজারমূল্য ব্যারেল প্রতি গড়ে ৮৭ ডলার। উল্লেখ্য, ইরানের তেলের ৯০ শতাংশই পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপ হয়ে পাঠানো হয়, যা এখন মার্কিন নজরদারিতে। তবে কেপলারের তথ্য বলছে, অবরোধের বাইরেও ইরানের হাতে প্রায় ১৫৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে, যা সাময়িকভাবে তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানও দমে থাকতে রাজি নয়। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা হরমুজ প্রণালীতে শুধুমাত্র ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে এবং আকাশছোঁয়া ট্রানজিট ফি আরোপ করেছে। তবে আমেরিকার জন্যও এই অবরোধ কার্যকর করা বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে থাকলেও পারস্য উপসাগরে বর্তমানে কোনো জাহাজ নেই। ফলে সমুদ্রের বিশাল ট্রাফিক সামলে এই ব্লকেড কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আলাম আরবির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধজনিত কারণে ইরানের এ পর্যন্ত প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের জন্য ইরান এখন কূটনৈতিক লড়াই শুরু করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার ও জর্ডানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ইরানের অভিযোগ, এই দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হামলার সুযোগ করে দিয়েছিল। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রকে এখন এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।