মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা কি চরম ঝুঁকির মুখে? চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে অশনি সংকেত!

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, আমদানিনির্ভর এই ব্যবস্থা ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত তার চাহিদার সিংহভাগ তেলই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে আমদানি করে। ফলে, ওই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতা তৈরি হলেই ভারতের বাজারে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের বর্তমান কৌশল মূলত তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি অনুযায়ী আমদানির উৎস পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে চলে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মোকাবিলা করার জন্য এই পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এখন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দূরদর্শী জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ভারতের কৌশলগত তেল ভাণ্ডার (Strategic Oil Reserves)। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের কাছে যা মজুত রয়েছে, তা সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে মাত্র আট সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এর বিপরীতে চিন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলি কয়েক মাসের তেলের যোগান নিশ্চিত করে রেখেছে।

পাশাপাশি, ভারতের রিফাইনারি বা শোধনাগারগুলির প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলি মূলত ভারী এবং মাঝারি মানের অপরিশোধিত তেলের জন্য তৈরি। ফলে আমেরিকা বা আফ্রিকার দেশগুলি থেকে হালকা তেল আমদানি করতে চাইলে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। এছাড়া দূরবর্তী দেশগুলি থেকে তেল আনলে পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে টান ফেলবে। রিপোর্টটি পরামর্শ দিয়েছে যে, কৌশলগত ভাণ্ডার বাড়াতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিই হতে পারে ভারতের রক্ষাকবচ।