বিহারের রাজনীতির এক অধ্যায়ের অবসান! পদত্যাগ করলেন নীতীশ কুমার, মন্ত্রিসভার বৈঠকে অঝোরে কাঁদলেন মন্ত্রীরা!

বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘ দুই দশকের এক বর্ণময় ইতিহাসের যবনিকা পতন হলো। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নীতীশ কুমার। ক্ষমতার অলিন্দ ছেড়ে তিনি এখন দিল্লির রাজনীতিতে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন। নীতীশের বিদায়ে বিহারে প্রথমবারের মতো কোনো বিজেপি নেতা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে কান্নার রোল: স্তব্ধ ছিল ৬ মিনিট
২০০৫ সাল থেকে বিহারের শাসনভার সামলানো নীতীশ কুমার আজ বিকেলে তাঁর শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালীন পরিবেশ ছিল অত্যন্ত থমথমে। বিদায়ী ভাষণে নীতীশ তাঁর সকল সতীর্থকে ধন্যবাদ জানান। প্রিয় নেতার বিদায়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী অশোক চৌধুরী ও লেশী সিং। এমনকি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মদন সাহনিও অঝোরে কাঁদলেন। তবে পুরো সময় শান্ত থেকে সবাইকে পরিস্থিতি সামলানোর পরামর্শ দেন স্বয়ং ‘সুশাসন বাবু’।
“আমার সিদ্ধান্ত কি সঠিক?”— মন্ত্রীদের কাছে জানতে চাইলেন নীতীশ
বৈঠক শেষে নীতীশ কুমার প্রত্যেক মন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। সূত্রের খবর, তিনি আবেগমথিত কণ্ঠে একটিই প্রশ্ন করেন— “আমার সিদ্ধান্ত কি সঠিক?” যদিও দলের কর্মীরা গত এক মাস ধরে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাজপথে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, তবে বিদায়বেলায় অধিকাংশ মন্ত্রীই তাঁর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। কেউ কেউ সরাসরি বলেছেন, “আপনাকে বিহার খুব মিস করবে।”
বিহারের মসনদে এবার সম্রাট চৌধুরী
নীতীশের পদত্যাগের পরই এনডিএ বিধায়ক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে নেতা নির্বাচিত হয়েছেন সম্রাট চৌধুরী। বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে তিনি সরকার গঠনের দাবি পেশ করেছেন। নীতীশের জেডিইউ-এর পক্ষ থেকে লাল্লান সিং ও সঞ্জয় ঝা-ও তাঁর পাশে ছিলেন।
শপথের সূচি:
তারিখ: ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬।
সময়: সকাল ১০:৫০ মিনিট।
স্থান: রাজভবন, পাটনা।
ধারণা করা হচ্ছে, সম্রাট চৌধুরীর পাশাপাশি জেডিইউ কোটা থেকে দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রীও এদিন শপথ নিতে পারেন। নীতীশ কুমারের এই প্রস্থান কেবল একটি পদত্যাগ নয়, বরং বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের শুরু বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।