বাবার স্মৃতিতে বিশেষ উদ্যোগ! আম্বেদকর জয়ন্তীতে মুসৌরিতে যা করলেন মন্ত্রী গণেশ যোশী, শোরগোল নেটপাড়ায়!

ভীমরাও আম্বেদকরের ১৩৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ড জুড়ে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেল। মুসৌরি থেকে খাতিমা—সর্বত্রই শ্রদ্ধার্ঘ্য ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করা হলো সংবিধানের প্রধান স্থপতিকে।

মুসৌরিতে মেধাসম্মান ও বৃত্তি প্রদান

মুসৌরির আম্বেদকর চকে ‘ভারতীয় দলিত সাহিত্য একাডেমি’র পক্ষ থেকে একটি বিশেষ মেধা বৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী গণেশ যোশী। তিনি বাবা সাহেবের মূর্তিতে মাল্যদান করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

এদিন মন্ত্রী গণেশ যোশী এবং রাজ্য মন্ত্রী ভগবত সিং মাকওয়ানা কৃতি ছাত্রছাত্রীদের হাতে ‘রাধেশ্যাম সোনকর স্মৃতি পুরস্কার’ ও বৃত্তি তুলে দেন। পাশাপাশি, পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য তুলে দেওয়া হয় ‘শকুন্তলা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’। একাডেমি সভাপতি সুনীল সোনকর তাঁর বাবা-মায়ের স্মৃতিতে এই মহৎ উদ্যোগ নেওয়ায় মন্ত্রী তাঁকে বিশেষভাবে সাধুবাদ জানান।

সম্মানিত হলেন একঝাঁক কৃতি ব্যক্তিত্ব

সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এদিন বেশ কয়েকজনকে ‘বাবা ভীমরাও আম্বেদকর ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করা হয়। পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন:

  • চিকিৎসা ও সমাজসেবা: ডঃ খাজন সিং চৌহান, এম এস আনসারি, ডঃ প্রেশিতা রাওয়াত।

  • সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতা: লোকসংগীত শিল্পী ডঃ রেশমা শাহ এবং সাংবাদিক বিজেন্দ্র পুন্দির।

  • অন্যান্য: বিমল রাওয়াত, নীতা কুকরেতি এবং সুরত সিং রাওয়াত।

আম্বেদকরের আদর্শই পথপ্রদর্শক

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী গণেশ যোশী বলেন, “আম্বেদকর কেবল সংবিধান প্রণেতা নন, তিনি ছিলেন সমতার মূর্ত প্রতীক। শিক্ষাকে তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ অস্ত্র মনে করতেন। আজকের যুবসমাজকে তাঁর আদর্শ মেনে জাতি গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।” অনুষ্ঠানের মাঝে পড়ুয়াদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত জনতাকে মুগ্ধ করে।

রামনগর ও খাতিমায় জনজোয়ার

মুসৌরির পাশাপাশি রামনগরে আয়োজিত হয় বিশাল এক শোভাযাত্রা। ব্যান্ডের সুর আর বাবা সাহেবের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা শহর। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে বিজেপি ও কংগ্রেস সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই মিছিলে সামিল হয়।

অন্যদিকে, খাতিমায় ডঃ আম্বেদকরের জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনায়। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে রাজপথে বের করা হয় জমকালো ট্যাবলো। বর্ণময় এই শোভাযাত্রায় সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।