বিহারের মসনদে বড় চমক! নীতীশ জমানার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজেপির সম্রাট চৌধুরী

বিহারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক বাঁকবদল। অবশেষে নীতীশ কুমারের উত্তরসূরি হিসেবে বিজেপির হেভিওয়েট নেতা সম্রাট চৌধুরীর নাম ঘোষণা করল এনডিএ। মঙ্গলবার পটনায় বিজেপির বিধায়ক দলের বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক শিবরাজ সিং চৌহান। এর ফলে বিহারে প্রথমবার বিজেপির নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় বসার পথ প্রশস্ত হলো।

কেন সরলেন নীতীশ?

রাজনীতির অলিন্দে জল্পনা ছিলই, তবে মঙ্গলবার তা বাস্তবায়িত হলো। সম্প্রতি ১৬ মার্চ নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে একই সাথে বিধানসভা ও সংসদের সদস্য থাকা সম্ভব নয়। সেই কারণেই গত ১০ এপ্রিল শপথ নেওয়ার পর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এবার ১, অ্যান মার্গের সরকারি বাংলো ছেড়ে তাঁর ঠিকানা হতে চলেছে ৭, সার্কুলার রোড।

সম্রাট চৌধুরীর হাতে নতুন বিহার!

বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের দক্ষতার পরিচয় আগেই দিয়েছেন সম্রাট চৌধুরী। এবার সরাসরি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তাঁর কাঁধেই দায়িত্ব তুলে দিল শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিন বেলা ৩টেয় বিধায়ক দলের বৈঠকের পর শিবরাজ সিং চৌহান জানান, দলের সমস্ত বিধায়ক সর্বসম্মতভাবে সম্রাট চৌধুরীকেই নেতা নির্বাচিত করেছেন। এই সিদ্ধান্ত বিহার বিজেপির জন্য এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীতীশের বিদায়বার্তা

পদত্যাগের পর আবেগঘন এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নীতীশ কুমার লিখেছেন, “২০০৫ সাল থেকে এনডিএ সরকার রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার এনেছে। হিন্দু-মুসলিম, দলিত-মহাদলিত—সকল শ্রেণির মানুষের জন্য কাজ করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সড়কের উন্নতিই ছিল আমাদের লক্ষ্য।” রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বিহারের এই পরিবর্তন ২০২৬-এর জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘকাল নীতীশ কুমারের ছায়ায় থাকা বিজেপি এবার সম্রাট চৌধুরীর হাত ধরে স্বতন্ত্রভাবে বিহার শাসনের সুযোগ পেল। পটনার রাস্তায় এখন শুধুই গেরুয়া শিবিরের উৎসবের আমেজ।