পয়লা বৈশাখের স্পেশাল মেনু এখন ওটিটি-তে! ভূরিভোজের সাথে জম্পেশ আড্ডা জমাবে এই বাংলা ছবিগুলি

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই পার্বণের কেন্দ্রবিন্দুতে যদি কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া না থাকে, তবে উৎসবটাই যেন পানসে! আজ শুভ নববর্ষ। বৈশাখের এই তপ্ত দুপুরে পাতে মাছের ঝোল কিংবা ডাব চিংড়ি না হলে কি চলে? তবে এবার শুধু থালায় নয়, খাবারের স্বাদ নিন রুপোলি পর্দায়। পয়লা বৈশাখের দুপুরে আয়েশ করে দেখার মতো এমন ৫টি বাংলা সিনেমার হদিশ রইল আপনার জন্য, যেখানে রান্নাই হলো আসল নায়ক।

১. মাছের ঝোল: বিদেশের শেফ যখন মায়ের হাতের স্বাদে

প্রতীম ডি গুপ্তা পরিচালিত এই ছবি বাঙালির আবেগের মূলে আঘাত করে। প্যারিসের নামী শেফ দেব ডি (ঋত্বিক চক্রবর্তী) ১৩ বছর পর কলকাতায় ফেরে শুধু মায়ের হাতের সেই নিখুঁত ‘মাছের ঝোল’-এর স্বাদ খুঁজতে। ঋত্বিক-পাওলি অভিনীত এই ছবি ক্ষুধার চেয়েও বেশি মনের খিদে মেটাবে। সঙ্গে অনুপম রায়ের গান তো উপরি পাওনা!

২. ডাব চিংড়ি: স্মৃতির সর্ষে-পোস্ত

নাম শুনেই কি জিভে জল এল? সুদীপ দাসের এই ছবি বৃদ্ধাশ্রমের প্রেক্ষাপটে তৈরি হলেও এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে রান্নার প্রতি ভালোবাসা। ইশা সাহা ও সাহেব ভট্টাচার্য অভিনীত এই সিনেমা রান্নার মাধ্যমে মানুষের একাকিত্ব দূর করার এক অসাধারণ গল্প বলে।

৩. রসগোল্লা: মিষ্টি আবিষ্কারের নেপথ্যে

নববর্ষে মিষ্টিমুখ হবে না, তাও কি হয়? পরিচালক পাভেল আমাদের নিয়ে যান নবীন চন্দ্র দাসের যুগে। কীভাবে কলকাতার বিখ্যাত ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’ আবিষ্কৃত হলো, উজান গঙ্গোপাধ্যায় ও অবন্তিকা বিশ্বাসের সহজ অভিনয়ের মাধ্যমে সেই ইতিহাসই পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এটি স্রেফ সিনেমা নয়, বাঙালির গর্বের দলিল।

৪. বৌদি ক্যান্টিন: হাতা-খুন্তির লড়াই

বিখ্যাত ব্রিটিশ শেফ আসমা খানের জীবন অবলম্বনে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় তৈরি করেছেন ‘বৌদি ক্যান্টিন’। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের অনবদ্য অভিনয় এখানে প্রমাণ করে যে, রান্না স্রেফ ঘরের কাজ নয়, এটি একজন নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার হাতিয়ারও বটে। খাবারের সাথে আত্মিক সম্পর্কের এক অনন্য দলিল এই ছবি।

৫. রান্না-বাটি: সম্পর্কের স্বাদ বদল

প্রতীম ডি গুপ্তার আরও একটি অনবদ্য সৃষ্টি। মরচে ধরা সম্পর্কগুলো কীভাবে সুস্বাদু খাবারের ছোঁয়ায় আবার প্রাণ ফিরে পায়, ঋত্বিক-সোহিনী-অনির্বাণরা তা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই ছবি বলে দেয়, ভালোবাসা প্রকাশের সেরা মাধ্যম হলো পছন্দের পদটি রেঁধে খাওয়ানো।