“আধার-ভোটার কার্ড লিঙ্ক আছে, সব জানতে পারব!” বিধাননগরে তৃণমূল নেতার হুমকিতে তোলপাড়

ভোটের মুখে ফের একবার উত্তপ্ত বিধাননগর। সল্টলেকের দত্তাবাদ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা নির্মল দত্তের একটি বিতর্কিত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের (বিএমসি ওয়ার্ড নম্বর ৩৮) একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নির্মল দত্তকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আধার কার্ড আর ভোটার আইডি লিঙ্ক করা আছে। কাকে ভোট দিচ্ছেন সব জানতে পারব। একটা অ্যাপ আছে, তার মাধ্যমে আমরা জেনে নেব।” তাঁর এই সরাসরি ‘হুমকি’ ঘিরেই এখন সরব বিরোধীরা।

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই বিজেপি নেতৃত্ব কড়া ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে। বিজেপি একে তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’-এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে দাবি করেছে যে, ভোট মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক দল হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তারা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত নেতার গ্রেফতারি দাবি করেছে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মল দত্তের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তবে আধার কার্ড এবং ভোটার আইডির মধ্যে এমন কোনো ডিজিটাল সংযোগ নেই, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিগত ভোটাধিকার বা কে কাকে ভোট দিয়েছেন তা জানা সম্ভব। এটি স্রেফ ভোটারদের মনে ভয় সৃষ্টির একটি কৌশল মাত্র।

বিধাননগর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর নির্বাচনী এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভোটদান প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কারোর পক্ষেই জানা সম্ভব নয় কে কাকে ভোট দিচ্ছেন। বিজেপি অভিযোগ করেছে, তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করছে। এখন দেখার, এই ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না।